মুক্তি পেলেন রোজিনা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা মামলায় কারাবন্দী সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন। রবিবারর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে তিনি কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ঢাকার পথে রওনা দেন। কাশিমপুর মহিলা কারগারের জেলার হোসনে আরা বীথি এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালতের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর তা যাচাই করতে বেশি সময় নেওয়া হয়নি। দ্রুততার সাথে আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রোজিনা ইসলামের স্বজনরা কারা ফটকের সামনে এসে পৌঁছান। তাদের মধ্যে ছিলেন- রোজিনা ইসলামের বোন লিনা আক্তার, দেবর জাহিরুল ইসলাম, ভগ্নিপতি প্রিন্স জাকারিয়া, ভাগনি মারিয়া রাউকি, সাংরিন ও ননদ রোজী আক্তার। এদিন বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তার রিলিজ অর্ডার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। সেখান থেকে রিলিজ অর্ডারটি কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার বলেন, পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরে আমরা জামিননামার সঙ্গে জমা দিয়েছিলাম। আদালতের নিবন্ধন শাখা থেকে স্বাক্ষর শেষে বিশেষ দূতের মাধ্যমে দুপুর সোয়া ৩টার দিকে জামিননামা কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কারা কর্তৃপক্ষ তা কাশিমপুর নারী কারাগারে ফরওয়ার্ড করবে। জামিনের আদেশ হওয়ার পর থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির অপেক্ষায় স্থানীয় সাংবাদিকদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। মুক্তি পাওয়ার পর রোজিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাংবাদিকতা চালিয়ে যাব। সাংবাদিকসহ যারা পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ।’ সকাল থেকে গাজীপুর প্রেসক্লাবের সদস্যরা ‘বিবেকের মঞ্চ’ নামে একটি ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এদিন সকালে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ বাকি বিল্লাহ ভার্চুয়াল শুনানি শেষে শর্ত সাপেক্ষে সাংবাদিক রোজিনার অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়।

মিডিয়া এর আরো খবর