এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাফ চাইলেন মুরাদ হাসান

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়া মুরাদ হাসান মা-বোনদের পর এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। মাফ চেয়ে বুধবার (৮ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন মুরাদ। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাফ চান। এর আগে গতকাল এক স্ট্যাটাসে ‘মা-বোনদের’ কাছে ক্ষমা চান তিনি।
 
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর করা অশ্লীল মন্তব্যকে ঘিরে কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল। এর মধ্যেই গতকাল সোমবার ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর ফোনালাপের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। 
 
যেখানে একজন চিত্রনায়িকার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অত্যন্ত নোংরা, রুচিহীন ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে তাকে হুমকিও দেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
 
সরকার ও দলের একাধিক সূত্র বলছে, ফাঁস হওয়া ফোনালাপ ও খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমান সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য মুরাদ হাসানের কি না, তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত হন ফাঁস হওয়া ফোনালাপ ও জাইমা রহমান সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য মুরাদ হাসানেরই। এরপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুরাদ হাসান তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
 
বুধবার মুরাদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরম শ্রদ্ধেয় মমতাময়ী মা, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা, আমি কোনো ভুল করে থাকলে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিবেন। আপনি যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমি সব সময়ই মাথা পেতে নিব আমার বাবার মতো।
 
মঙ্গলবার পদত্যাগের আগেই তিনি মা-বোনেদের কাছে ক্ষমা চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা দেশরত্ন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার সব সিদ্ধান্ত মেনে নিব আজীবন।’
 
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার পর আওয়ামী লীগের জামালপুর জেলা কমিটির স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক পদ থেকে মুরাদ হাসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের প্রাথমিক সদস্যপদও হারাতে যাচ্ছেন তিনি। এরপর বাকি থাকে সংসদ সদস্য পদ। আইনি জটিলতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সাংসদ পদও হারাতে পারেন তিনি।

রাজনীতি এর আরো খবর