হেফাজতের অরাজনৈতিক ৩৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা

জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিব করে ফের কওমি মাদরাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ৩৩ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিতে মামুনুল হকসহ বিতর্কিত ও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার নেতাদের স্থান হয়নি।
 
এছাড়া বিভিন্ন ইসলামী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক পরিচয়ধারী নেতাদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে এতে আরও সংযোজন হবে বলে জানানো হয়। কমিটি ঘোষণা করেন সদ্য মনোনীত কমিটির মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী।
 
কমিটিতে প্রয়াত আহমদ শফীর ছোট ছেলে আনাস মাদানীকে বাদ দেওয়া হলেও কমিটিতে আছেন বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ মাদানী।
 
জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ আগমনের বিরোধিতা করে সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত মার্চের ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ দেশজুড়ে সহিংসতা চালায় হেফাজত। সে সময়ে সরকারি অফিস, স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হয়। এরপর ঢাকা মহানগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের রিসোর্টকাণ্ডের পর নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১১ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন মামলায় হেফাজতের শীর্ষ কণ্ঠ অর্ধশতাধিক নেতাসহ প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে ২৬ এপ্রিল রাতে জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। আর তার কয়েক ঘণ্টা পর জুনায়েদ বাবুনগরীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা আসে। তখন থেকেই হেফাজত নেতারা বলে আসছিলেন শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
 
হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছেন, তারা হলেন, আমির মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জেহাদী। নায়েবে আমির ১১ জন। তারা হলেন, মাওলানা আতাউল্লাহ হাজেজ্জী, মাওলানা আবদুল হক মোমেনশাহী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরী (দেওনা পীর), মাওলানা মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ি, সিলেট), মাওলানা ইয়াহইয়া (হাটহাজারী মাদ্রাসা), মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস (ফরিদাবাদ মাদ্রাসা), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাবহবুব (বরিশাল), মাওলানা জসিমুদ্দীন (হাটহাজারি মাদ্রাসা), মাওলানা মুহাম্মদ আইয়ূব বাবুনগরী, মহাসচিব মাওলানা নূরুল ইসলাম জিহাদী। যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে আছেন ৫ জন। তারা হলেন, মাওলানা সাজেদুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা আব্দুল আউয়াল (নারায়ণগঞ্জ), মাওলানা আরশাদ রহমানী (বসুন্ধরা), মাওলানা লোকমান হাকিম (চট্টগ্রাম), মাওলানা আনোয়ারুল করীম (যশোর)।
 
সহকারী মহাসচিব ২ জন। তারা হলেন মাওলানা আবু তাহের নদভী (পটিয়া), মাওলানা ইউসুফ মাদানী (শফীপুত্র)। সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদরিস (চট্টগ্রাম)। সহকারি সাংগঠনিক সম্পাদক ২ জন। তারা হলেন মাওলানা মাসউদুল করীম (গাজীপুর), মাওলানা শামসুল ইসলাম জিলানী (কুমিল্লা)। অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আলী মেখল। সহ অর্থ সম্পাদক ২ জন। তারা হলেন মাওলানা হাবীবুর রহমান কাসেমী (নাজিরহাট), মাওলানা কিফায়াতুল্লাহ আজহারী (উত্তরা, ঢাকা)। প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী (সাভার), সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা খোবাইব (জিরি)। দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান (উত্তরা, ঢাকা)। সহ দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক। ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া মাদানী (চট্টগ্রাম)। সদস্য আছেন ৭ জন। তারা হলেন, মাওলানা মুবারক উল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), মাওলানা ফয়জুল্লাহ (মাদানী নগর পীর), মাওলানা মুশতাক আহমদ (খুলনা), মাওলানা রশীদ আহমদ (কিশোরগঞ্জ), মাওলানা আনাস (ভোলা), মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী।
 
কমিটি ঘোষণা উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জানান, আজ থেকে হেফাজতে ইসলামের অন্যতম প্রধান কাজ হবে সংগঠনের গঠনতন্ত্র তৈরি ও অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো পরিচালনা করা। তিনি দাবি করেন ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলায় হেফাজতের কোনো কর্মী জড়িত ছিল না বরঞ্চ হেফাজতকে ব্যবহার করে একটি চক্র নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছিল। যার জন্য তিনি দোষীদের শাস্তি প্রদানপূর্বক নির্দোষ ও নিরীহ আলেমদের হয়রানী না করে অতি দ্রুত মুক্তির দাবি জানান। কমিটি ঘোষণা উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া প্রায় সকল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী শারিরীক অসুস্থতার জন্য উপস্থিত হতে না পারলেও তার সম্মতি ও পরামর্শে কমিটি ঘোষিত হয়েছে বলে হেফাজতের মহাসচিব জানান।

সর্বশেষ সংবাদ

সংগঠন এর আরো খবর