কঠোর লকডাউন শুরু, বের হতে লাগবে মুভমেন্ট পাস

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। আজ ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে শুরু হয়ে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এ সর্বাত্মক লকডাউন। গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রা্ন্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সময় জরুরি সেবা ব্যতিত সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কোন কাজে ঘর থেকে বের হতে গেলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস লাগবে। এছাড়া শিল্প-কারখানা ও সীমিত পরিসরে খোলা রয়েছে ব্যাংকিং সেবা। লকডাউনে প্রথম দিনে সরজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। চেকপোস্ট বসিয়ে যারা বাইরে বের হয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জরুরি সেবার জন্য আইডি কার্ড ও মুভমেন্ট পাস ছাড়া রাস্তায় কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক বেশ জনমানব শূন্য দেখা গেছে। যারাই মুভমেন্ট পাস ছাড়া বের হয়েছেন তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। লকডাউন শুরুর দিনে ফাঁকা নগরীর সড়ক লকডাউনের বিধি-নিষেধগুলো হলো- *সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস/ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে, বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে। *বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। *সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অত্যন্তরীন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। * শিল্প-কারখানাসমূহ স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে, শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। *আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন-কৃষি উপকরণ সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে। * অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ, দারুসালাম ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন করে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে। *খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তরাঁ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রি ও সরবরাহ (Tukcnway/Online) করা যাবে। শপিংমল ও অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। *কাঁচাবাজার , নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রয় করা হবে। বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে। *বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে। *সারাদেশে খেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে। * স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তাঁর পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন। *স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মা ও তারাবী নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে; এবং উপযুক্ত নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করবে।

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় এর আরো খবর