রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাত সাড়ে ৮টার দিকে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মুহিবুল্লাহ আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান ছিলেন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি।
 
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, এশার নামাজের পর  লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে এআরএসপিএইচের কার্যালয়ে বসে কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে গল্প করছিলেন মুহিবুল্লাহ। এক পর্যায়ে মুখে গামছা পরিহিত একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে পরপর পাঁচটি গুলি ছোড়ে। তার শরীরে তিনটি গুলি লাগে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
 
রোহিঙ্গা শিবিরের নিরাপত্তায় থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মো. নাঈম-উল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে এপিবিএনের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুহিবুল্লাহকে উদ্ধার করে কুতুপালংয়ে এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
 
৪৮ বছর বয়সী মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারে থাকতে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। এজন্য রোহিঙ্গারা তাকে মাস্টার মুহিবুল্লাহ বলে ডাকত। রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও ও বিদেশী সংস্থার সঙ্গে মুহিবুল্লাহর সম্পর্কও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচিত ছিল। ইংরেজি জানার সুবাদে তিনি রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশীদের সঙ্গে আলোচনা চালাতেন। ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউজে তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে আলোচনায় এসেছিলেন মুহিবুল্লাহ। সে সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান।
 
এছাড়া ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট উখিয়ার কুতুপালং শিবিরের ফুটবল মাঠে কয়েক লাখ রোহিঙ্গার গণহত্যাবিরোধী যে মহাসমাবেশ হয়েছিল, তা সংগঠিত করেছিলেন মুহিবুল্লাহ। গণহত্যাবিরোধী ওই সমাবেশ বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছিল। ওই সমাবেশে মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, নিরাপত্তা, রাখাইনে ফেলে আসা জন্মভিটা ফেরতসহ সাত দফা পূরণ না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন। যে দাবিতে এখনো অনড় রয়েছে রোহিঙ্গারা।
 
এদিকে এ ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুহিবুল্লাহকে হত্যার জন্য উগ্রবাদী সংগঠন আরসাকে দায়ী করছে তারা। এ ঘটনার পর থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খুন ও সন্ত্রাস এর আরো খবর