রাজনীতি আর রাজনীতিক ও জনতার হাতে নেই
ত্রিকালদর্শী

দেশে রাজনীতি আর রাজনীতিকদের হাতে নেই। তবে বাংলাদেশের রাজনীতি এখন কার হাতে সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে৷ আসলে এটা সত্য কথা যে দেশের রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষের হাতে নেই৷ নির্বাচনী প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে পড়ায় জনগণের ভোটাধিকার বাধাগ্রস্থ হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের ভূমিকা গৌণ হয়ে পড়েছে৷
ক্শতার প্রভাব বলযে সবার উপরে আছে সেনাবাহিনী৷ তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় দেধের রাজনীতিকে।
এরপর ব্যবসায়ী শ্রেণি৷ এরা গত ৫০ বছরে উপরে উঠে এসছে৷ এরপর সবচেয়ে শক্তিশালী  হচ্ছে আমলা শ্রেণি৷ তারা আগে এতটা সবল ছিল না৷ বর্তমানে সিভিল আমলাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে৷
এর ফলে পেশাদার রাজনীতিকরা একঘরে হয়ে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করার আর কোনো প্রয়োজন আর না থাকায় জনগণ এখন আন মূখ্য আবস্থানে নেই। সাধারণ মানুষের যেহেতু কোনো ভূমিকা রাজনীতিতে নেই, সেকারণে দেশেররাজনীতিবিদরা  দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
 
এখন একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ না দিলে কিছু হয় না৷তাহলে বুঝতে হবে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন কোথায়।
ব্যক্তিনির্ভরতার রাজনীতির এই ধারার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রর উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। তারা তাই রাজনীতিক ও রাজনীতি আনেকটা নির্বাসনে।
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের কমিটির দিকে তাকালে সরকারের আমলানির্ভরতা ও রাজনীতিক বর্জনের অবস্থাটা দৃষ্টিকটুভাবে সবার চোখে ধার দেবে।
 
আসলে রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই৷ এটা এখন নিয়ন্ত্রক করেন সিভিল ও মিলিটারি ব্যুরোক্রেসি ও সমাজের বিত্তশালী-প্রভাবশালীরা৷ যেহেতু সরকার গঠনে সাধারণ মানুষের ভূমিকা গৌণ হয়ে গেছে তাই সাধারণ মানুষও আর রাজনীতিতে নেই৷ তাই তাদের গুরুত্বও নেই৷ ফলে রাজনীতি চলে গেছে রাজনীতিবিদদের হাতের নাগালের বাইরে৷
রাজনীতি শাসন করে৷শাসন করার ক্ষমতা যার হাতে তিনি রাজনীতিবিদ৷ এখন এটা স্পষ্ট যে শাসন করার ক্ষমতা  নানা গ্রুপের হাতে ভাগ হয়ে গেছে৷
 
বড় দুটি দলের একটি বিএনপিতে এখন আর রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়না৷ সেখান থেকে যা সিদ্ধান্ত আসে তাই দলের সিদ্ধান্ত৷'
আওয়ামী লীগ ও সরকারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দলপ্রধান যিনি সরকার প্রধানও।বাংলাদেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এখন হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ৷
 
রাজনীতির এই পরিস্থিতির পরিণতি যে সুখকর নয় তা বলার আপেক্ষা রাখে না।
বাংলাদেশে নানা রাজনৈতিক উত্থান পতনের পরও যারা পেশাদার রাজনীতিবিদ তাদের প্রাধান্য রাজনীতিতে ছিল৷বর্তমানে যারা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে আছের তাদের জায়গায় অন্য পেশাজীবীরা চলে এসেছেন৷ এরপর আছেন আমলারা৷
আমাদের এখানে ব্যবসায়ী বা আমলারা যখন সিদ্ধান্ত নেন তারা তাদের স্বার্থে নেন৷ জনগণের কথা ভাবেননা৷
সম্প্রতি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, তিনি নাকি মাঝে মাঝে ভুলে যান যে তিনি মন্ত্রী ! বড় ভয়ংকর স্বীকারোক্তি।
দীর্ঘদিন ব্যবসা করে অল্প সময়ের মধ্যে রাজনীবিদ হওয়া, দীর্ঘদিন আমলা থেকে ও  বাহিনীতিতে কাজ করে রাজনীতিতে এসে প্রভাবশালী উঠছেন অনেকেই৷
জনতার দ্বারা জনতার জন্য জনতার সরকার গঠন এখন আর যে মূখ্য বিষয় নয়। এখন বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠির দ্বারা গঠিত সরকার দেশের ঘাড়ে সিন্দাবাদের ভূতের মতে সওয়ার হয়ে আছে। যা দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাজনক।
 

অন্তরালের খবর এর আরো খবর