দৃষ্টিপাত : সরকার,জনতা ও প্রতিবেশি রাষ্ট্রর ভূমিকা
আফগানিস্তানে তালেবানের ৩০ দিন
বিশেষ প্রতিবেদক

 
এক মাস পার হয়ে গেল, আফগানিস্তানে তালেবানরা তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এতোদিনেও তারা একটা স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে পারেনি। যদিও তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণের পর আফগানদের জীবনের নানা ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তার সমাধানের কোনেই পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
তালেবানরা যুদ্ধ করতে জানে কিন্তু রাষ্ট্র চালাতে দরকার অভিজ্ঞ প্রশাসক। গত ২০বছরে মার্কিন সরকারেরর সহযোগীতায় যে আমলা শ্রেণী গড়ে উঠেছিলো তাদের বড় আংশ প্রাণভয়ে আফগানিস্তান ছেড়েছে। আনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এমতাবস্থায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন,ব্যাঙ্ক-বীমা ইত্যাদি ঠিকঠাক পরিচালনা করা সম্ভব না হওয়ায় দেশজুড়ে অনেকটা অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ সময়ে নগদ অর্থ সরবরাহ কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতির সংকট আরও গভীরতর হয়েছে। 
দেশে প্রায় গেড় কোটি মানুষ চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে। ক্ষুধা, দারিদ্র, খাদ্য ও মেধা সংকটে বিপর্যস্ত আফগানিস্তান তালেবান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে । 
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারও মারাত্মক এক আর্থিক সংকটে পড়েছে।
দ্রুত ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে অর্জিত সামরিক সাফল্যকে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সরকার ব্যবস্থায় রূপান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছে তালেবান নেতৃত্বাধীন নতুন অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার। তবে কাজটি তালেবানের জন্য কোনো মতেই সহজ হচ্ছে না।  কারণ নানামুখী সংকটের মধ্যে পড়া যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশের সরকার চালানো অনভিজ্ঞ  তালেবানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। 
দীর্ঘ একটা সময় ধরে যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গেছে আফগান নাগরিকরা। সর্বশেষ গত ২০ বছর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অধীনস্ত ছিল তারা। মার্কিন সেনার বিদায়ের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু গত দুই দশকে উন্নয়ন খাতে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেও আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে এখনো খাদের কিনার থেকে সরানো সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধ-সংঘাতের ফলে সৃষ্টি হওয়া দুর্ভিক্ষের সাথে এবার যোগ যোগ হয়েছে খরা। ফলে,দেশটির হাজার হাজার মানুষ গ্রাম থেকে শহরে এসে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আশঙ্কা, দেশটিতে যে খাদ্য মজুত আছে চলতি মাসের শেষদিকেই তা ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে করে এক কোটি ৪০ লাখের বেশি আফগান পড়তে পারেন অনহারের মুখে।  
কিন্তু এই খাদ্য সংকট তেমন কোন গুরুত্ব পাচ্ছেনা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে। তাদের উদ্বেগ এখন শুধু আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন সরকার নারীদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে কিনা বা আল-কায়েদার মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে কি না তা নিয়ে।
কিন্তু তারা এই ব্যাপারটা এড়িয়ে যাচ্ছে যে,দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে এখন অধিকার নয় বরং অগ্রাধিকার পাচ্ছে কোনোমতে টিকে থাকা বা দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগানো।     
কাবুলের শিশুরাসহ আফগানিস্তানের প্রতিটি মানুষ এখন ক্ষুধার্থ। তাদের কাছে এক ব্যাগ ময়দা কিংবা রান্না করার মতো তেল নেই।
অর্থকষ্টে তারা থালা-বাসান, হাঁড়ি-পাতিল, বালিশ, কম্বল, ফ্যানসহ ঘরের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন বিক্রি করবেন বলে। কমমূল্যে এসব বিক্রির জন্য কাবুলে অস্থায়ী হাঁটও গড়ে উঠেছে।
রয়টার্স তার প্রতিবেদনে আরও জানিয়েছে, চার দশক ধরে দফায় দফায় যুদ্ধ ও সংঘাত দেখে দেখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন আফগানরা। সর্বশেষ মার্কিন সেনাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে লড়াইয়ের অবসানকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলেও অর্থনীতির বেহাল দশার কারণে তাদের কারো চোখেমুখে এখনো স্বস্তির দেখা মিলছে না।
এমন অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগ কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। জতিসংঘ অন্নহীন আফগানদের অন্ন যোগাতে বিশ্ব সম্প্রদায় ও দাতা গোষ্ঠিগুলোর কাছে ৬০ কোটি ডলার চাইলে, এ যাবৎ ১০০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।
 
এদিকে রিপাবলিক মিডিয়া নেটওয়ার্ককে জানিয়েছে, তালেবানের মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। কারণ উপ-প্রধানমন্ত্রী ও তালেবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা গনি বারাদার পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন হাক্কানিদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করছেন না।
বিদ্রোহের অংশ হিসেবে মোল্লা গনি বারাদার তালেবানের সভায় যোগ দেননি। কারণ, সভায় উপস্থিত ছিলেন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি ও শরণার্থী মন্ত্রী খলিল উর রহমান হাক্কানি। 
আফগানিস্তানে ইসলামি আমিরাতের সরকার ঘোষণার কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই তালেবানদের মধ্যে বিভক্তির খবর পাওয়া গেছে।
অনেকটা মসৃণভাবে ক্ষমতা দখলের পরও আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের প্রক্রিয়া যখন বিলম্বিত হচ্ছিল, তখন থেকেই অনেকে সন্দেহ পোষণ করছিলেন যে ভেতরে-ভেতরে কিছু একটা সমস্যা রয়েছে। অবশেষে বিশ্লেষকদের সেই সন্দেহই মনে হয় ফলে গেছে। ক্ষমতা দখলের দুই সপ্তাহর পর যে সরকার গঠিত হলো, তার এক নম্বর উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে কাবুল ছেড়েছেন—এমনটিই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলো। 
এর আগে ভারতের দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া  সংবাদ দেয় যে, প্রস্তাবিত মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে হাক্কানি নেটওয়ার্ক-সমর্থিত কয়েকজনের সঙ্গে মোল্লা বারাদারের এক সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে বারাদার আহত হন বলেও পত্রিকাটি জানিয়েছিল। কয়েক দিনের মাথায় জানা যায় যে তিনি সুস্থ আছেন। এরই মধ্যে বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বারাদার সত্যি কাবুল ছেড়ে চলে গেছেন।
সাধারণ নিয়মাচার অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে একটা শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করা হয়। কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর তালেবানের অস্থায়ী মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো অনুষ্ঠান করা হয়নি। এই বিলম্ব তাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকটতাকেই তুলে ধরছে।
মোল্লা বারাদারের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্ক-সমর্থকদের কোন্দলের বিষয়টি শুরুতে গুজব মনে করা হলেও এখন আর একে গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। অনেকেরই বিশ্বাস, তালেবানের অভ্যন্তরে এই কোন্দলের মূল কারণ প্রধানমন্ত্রীর পদ। মোল্লা বারাদার ও সিরাজউদ্দিন হাক্কানি—উভয়ই ছিলেন এর দাবিদার এবং কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এ পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বিবদমান পক্ষদ্বয়ের সঙ্গে আলোচনা করে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে মোল্লা বারাদারকে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের ফর্মুলা দিয়ে আপাতত উভয় পক্ষকে শান্ত করে রাখেন। কিন্তু এর আগেই হাক্কানি-সমর্থকদের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা বারাদার।
বিগত কয়েকদিন ধরেই তাকে ঘিরে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছিল আফগানিস্তান ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ছড়িয়ে পড়েছিল অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও মৃত্যুর গুজব। তবে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সামনে এসেছেন আফগানিস্তানে তালেবানের অন্তর্র্বতী সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার।
এক ভিডিও বার্তার তিনি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে তার হতাহত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টিভিকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা বারাদার। আর তার এই সাক্ষাৎকার টুইটারে পোস্ট করেছে দোহাভিত্তিক তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়। সাক্ষাৎকারে বারাদার সংগঠনের ভেতরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর কথা অস্বীকার করেন। তিনি ভালো আছেন দাবি করে তালেবানের ভেতরে বিরোধ আছে, এমন গুঞ্জনকে নাকচ করে দেন। বারাদারের সাক্ষাৎকারের যে সংক্ষিপ্ত ভিডিওটি টুইটারে পোস্ট করা হয়েছে, এতে তাকে সোফায় বসে থাকতে দেখা যায়। তার পাশেই রয়েছেন সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী।
এদিকে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন আফগানিস্তানের কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠী তালেবানের নতুন সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার। 
যদিও সবার শেষে আছেন সদ্য আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।
 
এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে গত বৃহস্পতিবার বৈঠক করেছেন রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। বৈঠকে নেতারা তালেবানের প্রতি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। 
দুশানবেতে সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) ও কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও) জোটের রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকের ফাঁকে আফগানিস্তান নিয়ে ওই বৈঠকে মিলিত হন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আবদুল্লাহিয়ান।
বৈঠকে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর শীর্ষ কূটনীতিকেরা আফগানিস্তান ও এ অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাঁদের আলোচনায় আফগানিস্তানের জাতীয় পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেন। সেই সঙ্গে দেশটির নতুন শাসকগোষ্ঠী তালেবানের প্রতি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের আহ্বান জানান, যাতে সেই সরকার আফগানিস্তানের সব জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে পারে। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আফগানিস্তানে, বিশেষত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়া ও মাদক চোরাচালানের মতো হুমকি প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করার ওপরও জের দেন।
আফগানিস্তানের বিপজ্জনক মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতে শরণার্থীর ঢল নামার হুমকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁরা আফগানিস্তানের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণ জীবন ফিরে পায় ও দেশটির অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়, সেই লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, ‘তালেবান আফগানিস্তানে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা যদি সব পক্ষকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে কাজ করতে পারে, তবে আবার দেশটিতে শান্তি ফিরতে পারে। তারা যদি ভুল পথে যায়, তবে আমরা যে আশঙ্কা করছি, দেশটিতে সেই বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। শুরু হতে পারে এক বিরাট মানবিক সংকট ও শরণার্থী সমস্যা।’
ইমরান খান বলেন, ‘আফগানিস্তানে কোনো পুতুল সরকার জনগণ সমর্থন করবে না। তাই তালেবানকে নিয়ন্ত্রণ করার বদলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনে তাদের উৎসাহ দেওয়া উচিত। কেননা, দেশটির বর্তমান তালেবান সরকার পরিষ্কারভাবে অনুধাবন করেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া তারা সংকট থামাতে পারবে না। সে জন্য আমাদের উচিত, তাদের সঠিক নির্দেশনা দেওয়া।’
ওদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে বলেছেন, তালেবান সরকারের সঙ্গে তাঁর দেশের কাজ করা প্রয়োজন। দুশানবেতে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুতিন আরও বলেন, আফগানিস্তান নিয়ে জাতিসংঘের সম্মেলন আয়োজন করাকে সমর্থন করে তাঁর দেশ। এ ছাড়া বিশ্বশক্তিগুলোর উচিত, আফগানিস্তানের জব্দ করা অর্থ ছাড়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনা গতিশীল করতে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জাইওয়েভ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে থাকা আফগানিস্তানের অর্থ ছাড় করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।
আফগানিস্তানে মানবিক সংকট এড়াতে পদক্ষেপ নিতে হবে: আইএমএফ
এদিকে এএফপি জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বৃহস্পতিবার বলেছে, আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। 
 
 
 
 
 
 

অন্তরালের খবর এর আরো খবর