চাল নিয়ে চালবাজির কারণ কী? (শেষপর্ব)
বাদল মুনশী

সরকার তার প্রয়েজনে চাল কিনছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক টেণ্ডারের মাধ্যমে যে চাল কেনা হচ্ছে, ভারতের চাল রপ্তানিকারকরাই মুলত এই টেণ্ডার পেয়েছে। এদের টেণ্ডার বেশি হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে ভারতের চালের বাজার বেড়েছে।
যেহেতু করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্য দেশে চালের দাম বেশি। সেখানে ভারতে তুলনামূলক দাম কম। কিন্তু সরকারও যখন ভারত থেকে চাল আনছে এবং বেসরকারি আমদানিকারকরাও ভারতেই যাচ্ছে। সেজন্য সেখানেও দাম বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি আমদানিকারকরা আগ্রহী হচ্ছে নাপর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।
ঢাকায় চালের পাইকারি ব্যবসায়ী বা আড়তদারদের মতে চালের ঘাটতির সুযোগ বুঝে আমদানিকারকরা গড়িমসি করছে বলে বিস্তর অভিযোগ আছে।
গবেষকদের মতে আমদানিকারকরা অল্প সময়ের জন্য চাল আমদানির ক্ষেত্রে লাভ লোকসানের হিসাব নিকাশ করছে।
যাদের অনেক বড় অটো রাইস মিল, তাদের মিল চালু রাখতে হবে। মিল চালু রাখতে হলে যে পরিমাণ ধান তিনি স্বাভাবিক ব্যবসার জন্য কিনবেন, সেই ধান তার কাছে আছে। সেটা ভাঙাচ্ছেন এবং সেই চাল উনি বিক্রি করছেন। কাজেই তার আমদানি করার দরকার নাই।
বাকি আমদানিকারকরা হয়তো ভাবছেন আমদানি করলে বেশি দাম পাবেন না। যেহেতু কিছুদিন পরেই বোরো ধান উবে।
সরকার চাল আমদানির তৎপরতা শুরু করার পর চালের উর্ধ্বমুখী বাজার একটা স্থির অবস্থায় এসেছে।
দেশের অভ্যন্তরেও চাল যা আছে, সরকার সংগ্রহ মুল্য ৩৭ টাকা কেজির জায়গায় একটু বাড়িয়ে ৪০ টাকা করলে মিল মালিকদের কাছ থেকেও সরকার চাল সংগ্রহ করতে পারবে।
যদিও আমদানিকারকদেরই অনেকে চাল আমদানির টার্গেট পূরণ হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
 তবে সরকার চাল আমদানি টার্গেট পূরণ করতে এবং চালের বাজার নিয়ন্ত্রত করতে আমদানি অব্যাহত রাখবে বলে জানা গেছে।
পেয়াজ,আলু,মরিচের পর চাল নিয়ে এমন চালবাজি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে,দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য অসাধু সিণ্ডিকেটের হাতে বন্দী হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষ আজ তাদের কাছে জিম্মি, এই অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে জনজীবন বারবার হুমকির মূখে পড়বে।এবং সরকার তার ব্যর্থতাকে ঢাকার কোনই সুযোগ পাবেনা।
 

সর্বশেষ সংবাদ

অন্তরালের খবর এর আরো খবর