পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮, আশঙ্কাজনক ১৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বগির ভেতরে আটকেপড়াদের বের করতে রাতেও উদ্ধার কাজ চলছে।
 
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে ময়নাগুড়িতে বিকানের-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি এই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
 
দুর্ঘটনার পর ট্রেনটির ৬-৭টি কামড়া একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায়। একটি কামরার উপরে উঠে যায় অন্যটি। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও পাঁচজন।
 
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাটনা থেকে ছাড়ার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিলেন। পরে বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রীরা নামা-ওঠা করেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ৫১টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতাল থেকেই ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা রেললাইনের দু’পাশে যাত্রীদের পড়ে থাকতে দেখেছেন। অনেকে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া কামরায় আটকে পড়েছেন।
 
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব নট্ট বলেন, এলাকার লোকজন এবং স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ট্রেনের ১২টা কামরা পড়ে রয়েছে। ভেতরে প্রচুর যাত্রী আটকে আছে। তাদের সকলেই চিৎকার করছেন। আমরা অত্যন্ত অসহায় বোধ করছি।
 
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ট্রেন দুর্ঘটনার স্থানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে যাওয়ায় অনেকেই চাপা পড়েছেন। রাতেও চলছে উদ্ধার কাজ। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও ট্রেনের নিচে চাপা পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। গ্যাস কাটার দিয়ে একের পর এক বগি কাটছেন উদ্ধারকর্মীরা। কামরার কোনো কোণে পাওয়া যাবে প্রাণের সন্ধান, তার খোঁজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। যাত্রীদের সকলেই যে গুরুতর জখম এমন নয়। অনেকের আঘাত সামান্য। তাঁদের চিকিৎসা হচ্ছে দুর্ঘটনাস্থলেই।
 
রেলের একজন কর্মকর্তা জানান, দ্রুত উদ্ধারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু অন্ধকারে উদ্ধারকারীদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
 
জেলা প্রশাসক মৌমিতা গোদারা বসু উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসক নার্সদেরও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
এদিকে খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কোভিড-বৈঠকে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই ময়নাগুড়িতে বিকানের এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার খবর পান তিনি।
 
সঙ্গে সঙ্গেই কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিষয়টির খোঁজ নেন মমতা। দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানোর নির্দেশ দেন

আন্তর্জাতিক এর আরো খবর