তালেবানী আফগানিস্তান কোন পথে
পথচারী

তালেবানের দ্বিতীয় দফায় আফগানিস্তানে  ক্ষমতা দখলের ৫ মাস হয়ে গেলে। এময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনই স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি।
এই সংগঠনটি অবশ্য আগের কট্টরপন্থী মনোভাব থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয় ক্ষমতা দখলের পরপরই কিন্তু ধর্মীয়ভাবে রক্ষণশীল তা থেকে তার বের হতে পারছে কী?
ক্ষমতা দখলের পর কট্টরপন্থী মনোভাব থেকে সরে আসার যে ঘোষণা তালেবান দিয়েছিল তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি পাওয়ার একটি কৌশল এতে সন্দেহ নেই।
দুই দশক আগের তালেবানের সঙ্গে এই আজকের তালেবানের পার্থক্য খুঁজতে গেলে আপাত কিছুটা পরিবর্তন চোখে পড়লেও বাস্তবতা ভিন্ন।
কারণ এবারে তালেবানরা কিছুটা কৌশলের খেলা খেলছে। তারা নতুন মোড়কে পুরানা পণ্র গছাতে উদ্গ্রিব।
কারণ তারা তালেবান দফায় দফায় নানা নিষেধাজ্ঞা-নির্দেশনা আরোপ করে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা কৌশল পাল্টালেও স্বাভাব পাল্টায়নি।
১৯৯৫-২০০১ সালে তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে বেশ কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করেছিল। সে সময় চুরির জন্য হাত কেটে দেওয়া হতো। ধর্ষণের জন্য পাথর নিক্ষেপ করে মানুষ হত্যা করা হতো। এবং নারীদের ওপর নানা রকম কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলেও এবার তা আনেকটা শিথিল মনে হলেও ভিতরে ভিতরে তা তারা কর্যকর করতে মরিয়া।
আগে দেশটিতে নারীদের চাকরি করাযেতো না।কোনো পুরুষ আত্মীয় ছাড়া বাইরে বের হওয়াও ছিল আপরাধ।এইসব নিয়ম না মানলে কঠোর শাস্তিও ভোগ দেওয়া হতো।
তালেবান ক্ষমতা দখলের পর এখন পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কাজে ফিরতে পারছেন না নারীরা। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশটির অসংখ্য নারী।
অতি সম্প্রতি আবারও তালেবানরা নতুন এক  নির্দেশনায় পুরুষ সঙ্গী ছাড়া নারীদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি হিজাব না পরলে তাদের যানবাহনে তোলার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আপরদিকে তালেবান সরকার নারী মন্ত্রণালয় বিলুপ্তির ঘোষণা দিয়েছে এবং তালেবানের অন্তর্র্বতী সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো নারী ঠাঁই না পাওয়া বলে দিচ্ছে তাদের বদলটা আসলে বাহ্যিক।
 
ক্ষমতায় এসে তালেবানরা আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে গানবাজনা নিষিদ্ধ করেছে।
সম্প্রতি তালেবানরা বিজ্ঞাপন ও টিভি নাটকে নারীদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ করেছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে চলন্ত গাড়িতে গান বাজানোও।
এছাড়াও বিয়ে বাড়িতে উচ্চশব্দে গান বাজানোর অভিযোগে এক তরুণকে তালেবানরা গুলি করে হত্যা করে। যদিও পরে তারা দাবি করে তালেবানের কেউ নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে ওই তরুণকে হত্যা করে তাদের ওপর দোষ চাপানো হয়। 
যে সময়ে মুসলিমের তীর্থভূমি সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম সংগীত উৎসব আয়োজন করা হয়েছে এবং সেই সংগীত উৎসবে নারী-পুরুষ এক সঙ্গে নাচার অনুমতি পেয়েছেন, সেখানে তালেবানের এই ঘোষণা চরম রক্ষণশীল মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করেছে তাতে সন্দেহ নাই।
 
তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর আফগান অর্থনীতি চরম সংকটজনক অবস্থা পার করছে।জাতিসংঘ আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে,  দেশটির অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের বর্ণনা মতে, দেশটিতে মানুষ শুধু পেটভরে একটু খাবার খাওয়ার জন্য আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ঘটিবাটি পর্যন্ত বিক্রি করকে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি আফগানিস্তানে অরাজকতা বেড়েছে। এছাড়া তালেবানের নাম ব্যবহার করে অপরাধের ঘটনা কমেই বেড়ে চলেছে ।তালেবানের নাম ভাঙিয়ে অনেকেই ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অস্থিরতা বেড়ে চলেছে।আফগানিস্তানের ক্ষমতার পালাবদলের সময় যে সব রাষ্ট্র আফগানিস্তানেরর পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলার কৌশল দেখে মনে হয়। আগামী দিনগুলো তালেবানের জন্য সূখকর হবেনা।
 

মানবাধিকার এর আরো খবর