গত বছর বাংলাদেশ সীমান্তে ২৪৪ বার গুলি চালিয়েছে বিএসএফ

বাংলাদেশ সীমান্তে গত কয়েক বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি দাবি করেছে, ২০১৫ সাল থেকে সীমান্তে বিএসএফের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহারে তেমন হেরফের ঘটেনি। তবে বাংলাদেশ সীমান্তে গত বছর ২৪৪ বার গুলি চালিয়েছে বিএসএফ। একইভাবে প্রাণঘাতী নয় এমন পাম্প অ্যাকশন বা প্যালেট বন্দুকের ব্যবহারও করেছে তারা। সাধারণত বিএসএফ আন্তঃসীমান্ত অপরাধীদের আটকাতে এই প্যালেট বন্দুক ব্যবহার করে। ফলে এ সময়ে কমেছে গরু পাচারের মতো ঘটনা। বিশেষ করে গরু পাচার ঠেকাতে বিএসএফ এনজিওগুলোর সঙ্গে মিলে কাজ করছে।
 
খবরে বলা হয়, সীমান্তে ২০২১ সালে মাত্র ২০ হাজার ৪১৫টি গরু জব্দ করা হয়। যেখানে ২০১৫ সালে জব্দ করা হয়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০২টি। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল ছিল টার্নিং পয়েন্ট। ওই বছর গরু চোরাচালান আগের বছরের প্রায়
 
অর্ধেকে চলে আসে। এ ছাড়া অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে গত বছর বাংলাদেশ সীমান্তে ২৪৪ বার গুলি চালায় বিএসএফ। এর আগে ২০১৫ সালে ছিল ২১৯ বার এবং ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ৩৫৫ বার গুলি চালানো হয়েছিল। তবে ২০১৭ ও ১৮ সালে গুলির ঘটনা কিছুটা কমে। এ দুই বছর সীমান্তে বিএসএফ গুলি চালিয়েছিল যথাক্রমে ১৩৯ ও ৭৭টি।
 
এদিকে পিটিআই জানিয়েছে, ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সীমান্তের পুরোটা আগামী বছরের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেবে ভারত। গত শনিবার বিএসএফের মহাপরিদর্শক (ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার) সুশান্ত কুমার নাথ বলেছেন, ত্রিপুরায় বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৮৫৬ কিলোমিটার। যার মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ সীমান্তে এরই মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। গত বছর ত্রিপুরার পূর্ব সেক্টরের বড় অংশে বেড়া দেওয়ার কাজ করা হয়েছে এবং ৩১ কিলোমিটার অংশে বেড়া সম্প্রসারণের কাজও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হয়েছে। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে এক সারিতে বেড়া দেওয়ার কাজও চলছে। গত বছর সেখানে ১০ কিলোমিটার বেড়া দেওয়া হয়েছিল।
 
সুশান্ত কুমার নাথ আরও জানান, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে ফ্লাডলাইট স্থাপনের কাজও সমানতালে চলছে। আগামী বছরের মধ্যে কাঁটাতার ও ফ্লাডলাইট স্থাপনের কাজ শেষের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
 

মানবাধিকার এর আরো খবর