খালেদা জিয়ার জ্বর কমছে না, দুটি পরীক্ষা সম্পন্ন

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্বর কমছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য। তিনি জানান, জ্বরের মাত্রা ১০২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। জ্বর না কমার কারণ খুঁজছে মেডিকেল বোর্ড।
 
এর আগে আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। বিকেলে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে বের হয়ে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। কিছুদিন ধরে অসুস্থ বোধ করছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গত সপ্তাহে জ্বরে আক্রান্ত হন তিনি। বেশ কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেই মূলত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
 
খালেদা জিয়ার একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া হাসপাতালে পৌঁছানোর পর গাড়ি থেকে হুইল চেয়ারে করে তাঁকে নির্দিষ্ট কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা তাঁর সঙ্গে কথা বলেন এবং স্বাস্থ্যের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে এক দফা বৈঠকও করেন বোর্ড সদস্যরা। তবে খালেদা জিয়া হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে চান না। তাঁকে কয়েকটি স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব বুঝিয়ে হাসপাতালে রাখেন চিকিৎসকেরা।
 
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার সিটিস্ক্যান ও ইকো পরীক্ষা করা হয়েছে। আজই সে রিপোর্ট বের হবে। এ ছাড়া আরো কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়েছে। সবগুলোর রিপোর্ট চিকিৎসকরা পর্যালোচনা করবেন। বুধবার আরো বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার লিভার ও কিডনির ফাংশন সঠিকভাবে কাজ করছে না। এগুলো আসলে জটিল বিষয়। মাল্টিপল ডিজিস।
 
ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শেই বিএনপি চেয়ারপারসনকে ভর্তি করা হয়েছে। বেশ কিছু দিন ধরেই খালেদা জিয়া অসুস্থ। শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেশি।
 
খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন ও তাঁর বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে এমন খবরে তাঁকে এক নজর দেখতে দুপুর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ভিড় করেন।
 
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলসহ আরো অনেকে।

স্বাস্থ্য এর আরো খবর