ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ভূমিকা রাখুন, যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ

ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের গাজায় গত কয়েক দিন ধরে যে রক্তপাত ঘটাচ্ছে তা বন্ধ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
 
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান।
 
প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সংঘাত নিয়ে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের কথা রাষ্ট্রদূত মিলারকে জানান। পাশাপাশি সংঘাত থামাতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন শাহরিয়ার আলম।
 
ওআইসি নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন দ্রুত সময়ে ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
 
শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে, এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য। কিন্তু আমি তাকে বিনীতভাবে মনে করিয়ে দিয়েছি যে, এর আগের (ট্রাম্প) মার্কিন প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্ত এই সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করেছে।’
 
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জেরুজালেমে ইসরায়েলের রাজধানী পরিবর্তন করা এবং সেখানে মার্কিন দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ওআইসির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে নিন্দা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এ বিষয়গুলোর বিরোধিতা আমরা বলিষ্ঠভাবে করেছি, দুই বছর আগে। এই বিষয়গুলোকে আবারও পুরনো জায়গায় ফেরত নিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু এগুলো যে সংকটকে ঘনীভূত করেছে সেটি আমি তাকে বলেছি।’
 
এসময় আন্তর্জাতিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু, বিশেষ করে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি), প্রত্যাবাসন, করোনাভাইরাস ও টিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
 
রাষ্ট্রদূত মিলার প্রতিমন্ত্রীকে জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য হতে যাওয়া এ বছরের জেআরপিতেও সর্বোচ্চ অর্থায়নে ভূমিকা রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে মিলার বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে অব্যাহত সমর্থন দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
 
শাহরিয়ার আলম বলেন, বাংলাদেশের টিকার অনুরোধের বিষয়টি তাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে যে চিঠি লিখেছেন, তার উত্তর এক-দুই দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে।
 
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে টিকা উৎপাদন করা যায় কি না, সে বিষয়ে তারা আলোচনা করছেন। তবে অবশ্যই এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের বিষয়ে এর মধ্যেই ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

পররাষ্ট্র ও বাংলাদেশ এর আরো খবর