করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রতিরোধে
জীবন রক্ষায় ও অর্থনীতি সচল রাখতে সম্ভব সবকিছু করতে হবে

সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিরাময় ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলেছেন, এখনও মানুষ ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টেই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু অমিক্রনের সংক্রমণ শক্তি বেশি হওয়ায় আরও বেশি সংখ্যক লোক আক্রান্ত হবে বলে তিনি ধারণা করছেন।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, অমিক্রন সংক্রমণের হার বিবেচনা করে তারা জরুরি কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার জন্য সুপারিশ করেছেন। সেটা সাতদিনের মধ্যেই জারি করার তাগিদও দিয়েছেন।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধ আসবে।তবে পরের দিন তিনি সচিবালয়ে সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মিটিংয়ে ১৫ দিনের মধ্যে বিধিনিষেধ কার্যকর করার কথা হয়েছিল। কিন্তু ১৫ দিন আসলে অনেক বেশি। এই সময়ের মধ্যে রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সাত দিনের মধ্যে বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে হবে।
 
রোগতত্ত্ব, রোগ নিরাময় ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেনও আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে ব্যাপকহারে অমিক্রন ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ বা সাউথ এশিয়ান অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অমিক্রন সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যেহেতু আমাদের দেশে ট্রাভেল আছে অনেক  অর্থাৎ অনেক মানুষ যাতায়াত করেন, তাই বন্দরে স্ত্রিনিং করে এটা আটকানো কঠিন।ভাইরাসটির পরিবর্তন হচ্ছে , বাংলাদেশে এর মধ্যেই ১০টি সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যেকোনো সময় এটা বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী তথ্য উপাত্ত এবং অমিক্রণ ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার ক্ষমতা, দুটি মিলিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, আগামী তিন থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে হয়তো অমিক্রন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে অমিক্রন সংক্রমণ বাড়লেও তাদের সবাইকে হয়তো হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে না বলে তিনি ধারণা করছেন।
তারমতে গ্লোবাল তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে আশা করা হচ্ছে যে, অমিক্রনে (আক্রান্ত হলেও) হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা কম হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অমিক্রন সংক্রমণের হার পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে, অন্যান্য দেশে অমিক্রনের মৃদু সংক্রমণ হলেও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মৃত্যুর হার কম। কিন্তু একই সময়ে যদি অনেক বেশি রোগী হয়, সেটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও ব্যাপক চাপ তৈরি করতে পারে।
মৃদু পেশেন্টের ক্ষেত্রে হোম আইসোলেশনের কথা বলা হলেও বাংলাদেশে সকল মানুষের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই যে, বাসায় আইসোলেশনে থাকবে।
আর ভাইরাস যতো মৃদু হোক না কেন, যাদের বয়স বেশি, যাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ আছে, তাদের জন্য কিন্তু যেকোনো মৃদু ভাইরাস বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে। এজন্য বয়োজ্যেষ্ঠ জনগণ এবং যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, অমিক্রন যেন তাদের আক্রমণ করতে না পারে, সেজন্য তাদের অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যতোই মৃদু হোক না কেন, এটা তাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দেখা দিতে পারে।
এজন্য সতর্ক থাকতে হবে, সবাইকে করোনার স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।
 
অমিক্রন বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেসব সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে যানবাহনে অর্ধেক আসনে যাত্রী পরিবহন, ঘরে-বাইরে মাস্ক পরা এবং সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
অমিক্রন ঠেকাতে প্রস্তুতিমূলক এই সভা থেকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তার মধ্যে একটি হলো কোন রেস্টুরেন্টে গেলে টিকার সনদ সাথে নিতে হবে। যদি টিকার সনদ না নেয়া হয় তাহলে ঐ রেস্টুরেন্টকেও জরিমানা করা হবে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুসারে মঙ্গলবার বাংলাদেশে নতুন করে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হয়েছেন সাতশ জন। ফলে দৈনিক শনাক্তের হার ৪ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৯১৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৮৭ জনের বলে জানা যায়।
বিগত দুই বছরে দেশে দুটি করোনার ঢেউ আছড়ে পড়ায় জানমাল ও অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
তাই দেশের মানুষকে নিরাপদে রাখতে হলে এখনই সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আধিদপ্তর ও দপ্তর সমূহকে করোনা প্রতিরোধে আগাম সম্ভব সব রকম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। করোনা মহামারী শুধু জনস্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করে না, দেশের অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই  দেশের অর্থনীতিও যেন স্বাভাবিক থাকে সেদিকে খেয়াল রেখে করোনা প্রতিরোধক ব্যবস্থা সমূহ নিতে হবে।আমরা আশা করবো সরকার বিগত দুই বছরের করোনা প্রতিরোধের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আরও কার্যকরী ও ফলপ্রসু সকল ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
 
 
 

সম্পাদকীয় এর আরো খবর