অতি দ্রুত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা
পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে

জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বা আইপিসিসি সোমবার একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে৷ তাদের গবেষণায় দেখা যায়, এ শতকের শেষ নাগাদ পৃথিবীর উপরিভাগের তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল, তা আগামী দেড় দশকেই পেরিয়ে যাবে৷ আইপিসিসি এমন একটি সময়ে তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করলো, যখন পৃথিবীর অনেক দেশেই রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, দাবদাহে পুড়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল৷ এছাড়া পৃথিবীর সব অঞ্চলেই দেখা দিচ্ছে অতিবৃষ্টি, বন্যা বা খরা৷
জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করে মানুষ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাকশিল্পযুগের চেয়ে এরই মধ্যে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়িয়ে ফেলেছে (০.৮ ডিগ্রি সে. থেকে ১.২ ডিগ্রি সে.)৷ এর অর্থ গড়ে প্রতি দশকে মানবসৃষ্ট কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়েছে ০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷
রিপোর্টের ফল দেখে এটা নিশ্চিত যে আমরা এরইমধ্যে একটি জলবায়ু সংকটের ভেতর পড়ে গেছি।
প্রতি ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে অতিবৃষ্টির হার বাড়ে ৭ ভাগ৷ বাড়ে শক্তিশালী সাইক্লোনের হার৷ প্রতিবেদনটি বলছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা আর ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে প্রতি শতকে দুই থেকে তিনবার ভয়ঙ্কর অতিবৃষ্টির কবলে পড়বে পৃথিবী৷ প্রতি দশকে একবার প্রচণ্ড খরায় অধিকাংশ জমি শুকিয়ে যাবে এবং চারবার উর্বরতা হারাবে৷ হিট ওয়েভ বা তাপপ্রবাহের ঘটনা এরই মধ্যে বেড়েছে ২.৮ গুণ৷ আর একটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে তা ৯.৪ গুণ বাড়বে এবং তাপমাত্রা বাড়বে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷
 
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যা, খরা, অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা, দাবানলের মতো বিপর্যয় জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক কুপ্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাইয়ে দিচ্ছে৷ এই প্রবণতায় রাশ টানতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার জন্য চাপ ও তাগিদও বাড়ছে৷ নভেম্বর মাসে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে বিশ্বনেতারা সেই লক্ষ্যে সম্মিলিত লক্ষ্যমাত্রা স্থির করবেন বলে আশা করা হচ্ছে৷
এমনই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব সম্পর্কে মূল্যায়ন পেশ করতে চলেছে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দফতর৷ জেনেভায় পর্যায়ক্রমে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোট চারটি রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে৷ ৬৬টি দেশের ২৩৪ জন লেখক বিশ্বের সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের সমন্বয়ে সেই সংকলন তৈরি করেছেন৷ সাত বছর আগে শেষবার সার্বিক পরিস্থিতির এমন বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়েছিল৷ ১৯৯০ সাল থেকে এই নিয়ে মোট ছয়বার জাতিসংঘ এমন রিপোর্ট পেশ করছে৷ জীবাশ্মভিত্তিক তেল পোড়ানো, ব্যাপক কৃষিকাজ, অরণ্য বিনাশ, গবাদি পশুপালন এবং দূষণের মতো কার্যকলাপের ফলে মানুষ পরিবেশের যে ক্ষতি করে চলেছে, তার গতি ও পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে৷ মোটকথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন যে দায়ী, সে বিষয়ে প্রায় অকাট্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব নেই৷ শুধু ২০১৩/১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ ছয়টি বছর নথিভুক্ত করা হয়েছে৷
২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমিয়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছিল৷ সেই প্রবণতা বড়জোর দুই ডিগ্রি, সম্ভব হলে দেড় ডিগ্রির বেশি যাতে না বাড়তে পারে, তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছিলেন বিশ্বনেতারা৷ কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব দেখা গেছে৷ 
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আলাপ-আলোচনার পর জাতিসংঘের পরিবেশ জলবায়ু বিজ্ঞান প্যানেলের ১৯৫টি সদস্য দেশ এই রিপোর্ট অনুমোদন করেছে৷ ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মেরু প্রদেশে বরফ গলে চলায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা সম্পর্কে পূর্বাভাস পাওয়া যাবে৷ আরও সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির কল্যাণে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে৷ বলা বাহুল্য, সেই পূর্বাভাস যে স্বস্তির কোনো কারণ তুলে ধরবে, এমন আশা কেউ করছে না৷ বরং ঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতির আরও অবনতির চিত্র তুলে ধরতে চলেছে জাতিসংঘের প্রথম রিপোর্ট৷ এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত কর্তাব্যক্তিরা এমনই পূর্বাভাস দিচ্ছেন৷ 
জলবায়ুগত পরিবেশ বিপর্যযে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হবে বাংলাদেশ। জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তর। এতে সূর্যের অতি বেগুণী রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এসে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করায় অতি দ্রুত বাড়ছে পৃথিবীর তাপমাত্রা। গলে যাচ্ছে উত্তর-দক্ষিণ মেরু ও পর্বত সৃঙ্গের  জমাট বরফ। এতে বাড়ছে সমূদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। এমন আবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক শতকে নয় বরং অর্ধ শতকেই তলিয়ে যাবে সারগর পৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক মিটার উচ্চতার বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের বিশাল এলাকা। তাই আমাদের এখনই সতর্ক হতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর হার কমাতে হবে এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধ করতে হবে। এবং বেশি করে গাছ  লাগাতে হবে। এবং নবায়নযোগ্য জ্বালঅনী ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।
আমরা দেখতে পাচ্ছি যে,পরিবেশ দূষণের কারণে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। তাই এমনটা রোধ করতে হবে। নইলে আমাদের অস্তিত্ব চরম হুমকির সম্মূখীন হবে।,যা কখনোই কাম্য হতে পারে না।
 

সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয় এর আরো খবর