পালিত হচ্ছে ‘দুর্যোগ প্রশমন দিবস’

‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি এক সাথে’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ১৩ অক্টোবর, বুধবার পালিত হচ্ছে ‘দুর্যোগ প্রশমন দিবস’। 
 
দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি-হ্রাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নানাবিধ কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশের মানুষ যেকোনো দুর্যোগে নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সচেষ্ট ও প্রস্তুত থাকার মনোবল অর্জন করেছে।
 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর (সিপিপি) ৫০ বছরে পদার্পণ উদ্যাপন এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত থাকবেন। 
 
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
 
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ দিতে দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাস এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। দুর্যোগকালীন ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনে সব সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম ও জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত  থাকবে— এ প্রত্যাশা করি।’
 
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাসে, কাজ করি একসাথে’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর লালিত ও প্রধানমন্ত্রীর আনুকূল্যপুষ্ট ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) গৌরবময় ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠান উদ্যাপিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।’
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।’
 
বাণীতে তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৫০ বছরপূর্তিও উদ্যাপিত হচ্ছে।’
 
দিবসটি উপলক্ষে এক ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ এনামুর রহমান বলেন, “নদীভাঙ্গনের শিকার ৯ হাজার ৪৪৫টি পরিবারকে দুই শতাংশ জায়গাসহ পাকাঘর করে দেয়া হবে। ইতোমধ্যে এসব গৃহহীনদের তালিকা করা হয়েছে।”
 
নদীভাঙ্গনে রোধে টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে এনামুর রহমান বলেন, “সেই ডেল্টা প্ল্যানের মধ্যে একটি হটস্পট হচ্ছে নদী ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনার আওতায় রয়েছে- নদীতে টেকসই বাঁধ দেয়া, নদী খনন করে নাব্য সৃষ্টি করা। ২০৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।”
 
এছাড়া জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার প্রতিনিধিরা কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজারের নদীগুলো শাসন করে বন্যা ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
 
তিনি বলেন, “সব দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা সফলতা অর্জন করেছি। সরকার বিল্ডিং কোড করেছে। এই কোড মেনে আগামীতে বাড়ি করলে তা ভূমিকম্পসহনীয় হবে। সাত দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পসহনীয় মাত্রায় তৈরি করা হয়েছে।”