৩৮ দিনে আরও ৬০ হাজার কারাবন্দির জামিন

বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ তাণ্ডবের মাঝে দেশের নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে গত ৩৮ কার্যদিবসে আরও ৬০ হাজার ৪৮৯ জন কারাবন্দিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। গত ১২ এপ্রিল থেকে ৮ জুন পর্যন্ত তাদের জামিন দেওয়া হয়
 
বুধবার (৯ জুন) সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
 
তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১২ এপ্রিল থেকে পুনরায় দ্বিতীয় দফায় সারাদেশের অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিন ও অতি জরুরি ফৌজদারি দরখাস্ত শুনানি হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ১২ এপ্রিল থেকে ৮ জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ কার্যদিবসে সারাদেশের অধস্তন আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৯১টি জামিনের দরখাস্ত ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
 
এই সময়ের মাঝে মোট ৬০ হাজার ৪৮৯ জন হাজতি অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন। এরমধ্যে একই সময়ে মোট জামিন পেয়েছে ৯৭৪ জন শিশু।
 
করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে আদালতের কার্যক্রম চালাতে প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে গত ১১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানী।
 
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধে আগামী ১২ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও অতীব জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তসমূহ নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালত ও ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
 
এতে আরও বলা হয়, প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারীও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, শিশু আদালতের বিচারক এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০’ এবং হাইকোর্ট কর্তৃক জারি করা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে কেবল জামিন ও অতি জরুরি ফৌজদারি দরখাস্তগুলো নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
 
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্ট বিভাগ থেকে দেওয়া জামিন আদেশের ক্ষেত্রে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিননামা দাখিল করতে হবে। এছাড়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

আইন আদালত এর আরো খবর