এসএম সুলতান চলে যাওয়ার ২৭ বছর আজ

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান চলে যাওয়ার ২৭ বছর আজ। ১৯৯৪ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে চলে যান স্বাধীনতা পদক পাওয়া এই গুণী শিল্পী। দিনটি পালন উপলক্ষে এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, নড়াইল জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
 
এসএম সুলতানের পুরো নাম শেখ মোহম্মদ সুলতান। যদিও শৈশবে তার বাবা নাম রেখেছিলেন লাল মিয়া। বাবা শেখ মোহম্মদ মেসের আলী ছিলেন একজন রাজমিস্ত্রী। কিন্তু সুলতানের কাছে তার বাবা ছিলেন একজন শিল্পী। তৎকালীন জমিদার বাড়ির অনেক নকশা সুলতানের বাবার করা। সুলতান সেসব কাজ দেখেছেন একদম কাছ থেকে যা তাকে পরবর্তীতে শিল্পী হতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।
 
চার-পাঁচ বছর বয়স থেকেই সুলতান পুঁইয়ের পাকা ফলের রং আর কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ছবি আঁকতেন। মাত্র ১১ বছর বয়সে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি এঁকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নড়াইলের জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ রায় তার আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হন। ১৯৪৭ সালে ভারতের সিমলায় তার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি করাচি থেকে ঢাকায় এসে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্কুল অব আর্টস।
 
এসএম সুলতান বিদেশে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনীসহ দেশে চারটি দলবদ্ধ, দুটি একক এবং লন্ডনে একটি দলবদ্ধ চিত্র প্রদর্শনী করেন। তেলরং, জলরং, কাঠ-কয়লা দিয়েও ড্রয়িং করেছেন তিনি।
 
সুলতান যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে 'ম্যান অব দ্য ইয়ার', নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে 'ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট' এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে 'ম্যান অব এশিয়া' খেতাব লাভ করেন। এ ছাড়া তিনি ১৯৮২ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পান তিনি।
 
১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় রাজমিস্ত্রি পরিবারে জন্মগ্রহণ করা কিংবদন্তি এ শিল্পী শহরের কুড়িগ্রামে সুলতান কমপ্লেক্স চত্বরে চিরনিদ্রায় শায়িত হন।