রত্নগর্ভা সম্মাননা পেলেন ৩৫ মা

'আমার মা আমার ভালবাসা। তিনি সফল। দু'চোখ ভরা স্বপ্ন তিনি সত্য করেছেন। সন্তানদের সুশিক্ষা দিয়েছেন। মানুষ করেছেন। সৃষ্টি সুখের উল্লাসে সেই মায়েদের আজ আনন্দ করার দিন। মর্যাদা লাভের দিন।' রোববার বিশ্ব মা দিবসে 'রত্নগর্ভা মা-২০১৮' সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে রত্ন সন্তানরা এভাবেই নিজ নিজ মায়ের কীর্তিগাঁথা তুলে ধরেছেন। রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ. চৌধুরী সেন্টারে আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে রত্মগর্ভা মায়েদের হাতে আজাদ প্রোডাক্টস্ প্রবর্তিত এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।  ২০১৮ সালের জন্য সম্মাননা পান দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার অমরেশ রায়ের মা নির্মলা রাণী রায়সহ ৩৫ মা। সাধারণ ও বিশেষ- দু'টি ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া এবারের 'মাই ড্যাড ওয়ান্ডারফুল' অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কবি আসাদ চৌধুরী। ২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রোডাক্টস্ এই সম্মাননা দিয়ে আসছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আজাদ প্রোডাক্টস্ (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।  এ সময় অনুভূতি ব্যক্ত করেন কবি আসাদ চৌধুরী। 'রত্নগর্ভা মা' ও তাদের ছেলে-মেয়ে ছাড়াও আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক অনামিকা হক লিলি, আবুল কালাম আজাদের ছেলে জিয়াউর রহমান আজাদ ডায়মন্ড এবং মেয়ে অনামিকা আজাদ শ্রাবণী। মাকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী দিনাত জাহান মুন্নী। সঞ্চালনা করেন শামীম আরা মুন্নী ও সাজ্জাদ কাদির। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, কৈশোরে আমি মাকে হারিয়েছি। মায়ের কথা মনে পড়লেই ভাষা হারিয়ে ফেলি, আবেগপ্রবণ হয়ে যাই। অন্য মায়েদের সফলতা দেখে মনে হয়, আমার মা বেঁচে থাকলে তিনিও এমন সম্মাননা পেতেন। রত্নগর্ভা মায়েদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজ যারা এখানে আছেন সবাই আমার মা। এই মায়েরা সম্মান পেলেন নিজেদের যোগ্যতায়। এই মায়েদের নিয়ে জাতি গর্বিত। তারা সফলভাবে সন্তানদের মানুষ করেছেন। সমৃদ্ধ বাংলাদেশের যাত্রায় তাদের অবদান বিশাল। আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে পৃথিবীর যে কোনো দেশ থেকে বাংলা মায়ের সন্তানরা এগিয়ে। এ দেশের দিনমজুর ও খেটেখাওয়া মানুষরাও তাদের মাকে বৃদ্ধ বয়সে পাশে রাখেন, দূরে ঠেলে দেন না, বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান না। কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, মা স্বপ্ন নিয়ে সন্তানদের গড়ে তোলেন, সৎ থাকতে বলেন, স্বপ্ন দিয়ে বড় করে তোলেন। মা-বাবার বিপুল ত্যাগ আর পরিশ্রমের বিনিময়ে সন্তানরা মানুষ হয়। রত্মগর্ভা মা সম্মানা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি বছর 'মা দিবসকে' সামনে রেখে মাকে নিয়ে নতুন একটি গান রচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাই। স্বাগত বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মুধর সম্পর্কের নাম মা। মা হচ্ছেন শিল্পী, মানুষ গড়ার কারিগর। আমরা জিতলে জিতে যান মায়েরা। জিতেছি, বড় হয়েছি, মানুষ হয়েছি। তাইতো মায়েদের আজ 'সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' মর্যাদা পাওয়ার দিন। নিজের জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাত বছর বয়সে মাকে হারানো এই উদ্যোক্তা এক পর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন। এরপর 'রত্নগর্ভা মা-২০১৮' সম্মাননাপ্রাপ্ত মায়েদের হাতে সম্মাননা হিসেবে একটি করে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ২৫ জন এবং বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০ জন মা এই সম্মাননা পান। সাধারণ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পান ফাতেমা ইসলাম শিরীন, রওশনারা বেগম, রহিমা খাতুন, আপেল রানী সাহা, হামিদা রাজ্জাক, মমতা বেগম, দৌলত আরা বেগম, হোসনে আরা বেগম, কাজী জাহানারা হোসেন, সালেহা হক, আয়েশা খাতুন, নুরুননেছা, আফিয়া সোলায়মান, ফজিলাতুন্নেসা, রোমেলি বড়ুয়া, রাবিয়া আলম, মনোয়ারা বেগম, সেলিন ডি কস্তা, জোহরা আককাজ, রোকেয়া বেগম, জোবাইদা হক, মেহেরুন্নেছা, নির্মলা রাণী রায়, রিজিয়া কামাল এবং সুফিয়া খাতুন। বিশেষ ক্যাটাগরিতে সম্মাননা গ্রহণ করেন গুলনাহার বেগম, তাহেরা খানম, ছালেহা খাতুন, রহিমা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, দিলরুবা হক রুমা, তাহমিনা বেগম, রোকেয়া সিদ্দিকী, ডা. পারভীন হাকিম আনোয়ার এবং খন্দকার তহুরা। সব শেষে 'মাই ড্যাড ওয়ান্ডারফুল' অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত কবি আসাদ চৌধুরীর হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

নারী ও শিশু এর আরো খবর