দুই জেলায় ঝড়ের কবলে প্রাণ গেল ৭ জনের

জয়পুরহাট ও নারায়ণগঞ্জে ঝড়ের কবলে পড়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জয়পুরহাটে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন মারা গেছে। আর নারায়ণগঞ্জে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। মঙ্গলবার রাত ও আজ বুধবার সকালে ঝড়ে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
 
জয়পুরহাটে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৪০টি গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এ সময় দেয়াল চাপা পড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া মুরগির সেড ভেঙে প্রায় ৪০ হাজার মুরগিও মারা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ে এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়।
 
নিহতরা হলেন- ক্ষেতলাল উপজেলার খলিশাগাড়ি গ্রামের দিনমজুর জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী শিল্পী বেগম (২৮) তার দুই শিশু সন্তান নেওয়াজ (৮) ও নিয়ামুল (৩) এবং কালাই উপজেলার হারুঞ্জা আকন্দপাড়া গ্রামের মরিয়ম বেগম (৭০)।
 
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার পর জেলায় প্রবল বেগে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড়। এ সময় ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লে দেয়াল চাপায় মা ও দুই সন্তান এবং ঘর ভেঙে এক বৃদ্ধা মারা গেছেন।
 
এ ছাড়া সদরসহ কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ক্ষেতলালের তিলাবদুল এলাকায় মুরগির খামারের সেড ভেঙে ৪০ হাজার মুরগি মারা গেছে। প্রায় দুই হাজার বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালা উড়ে গেছে।
 
শত শত গাছ ও বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি উপড়ে গেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
 
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঝড়-বৃষ্টির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শিশুসহ এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার সকালে রসূলবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহতদের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী এক নারী, ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু ও সাড়ে তিন বছরের এক ছেলে শিশুর রয়েছে। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ফারুক জানান, সকালে ঝড়-বৃষ্টির সময় রসূলবাগ এলাকায় বজ্রপাতে ট্রান্সফরমার থেকে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে একটি টিনের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ঘর থেকে বের হতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ওই তিনজনের মৃত্যু হয়।

আবহাওয়া এর আরো খবর