ছয় বছরে ৩১ লাখ পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছে : পর্যটনমন্ত্রী
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

গত ছয় বছরে ৩১ লাখ ২২ হাজার ৭৫৬ জন পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। তিনি আরো জানান, বিদেশি সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক ও উন্নত করা হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য শামসুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সালে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৫ জন, ২০১১ সালে পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৬৭৭ জন, ২০১২ সালে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ১৯৩ জন, ২০১৩ সালে দুই লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৬ জন, ২০১৪ সালে চার লাখ ৮৯ হাজার ৫৩১ জন এবং ২০১৫ সালে ছয় লাখ ৪৩ হাজার ৯৪ জন পর্যটক বাংলাদেশে এসেছে। তিনি জানান, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। বিদেশি ট্যুর অপারেটর বা পর্যটন বিষয়ক সাংবাদিক বা লেখককে বাংলাদেশে পরিচিতিমূলক ভ্রমণে নিয়ে আসার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটররা যাতে সম্ভাবনাময় সোর্স দেশগুলোর ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে  ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন সে লক্ষ্যে বিজনেস টু বিজনেস সভার আয়োজন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিজিটাল ও অনলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য যাতে পর্যটকরা সহজে পেতে পারেন সে লক্ষ্যে ওয়েবসাইট হালনাগাদ করা হচ্ছে। একই প্রশ্নের জবাবে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য 'ভিসা অন এরাইভেল'র পরিধি বাড়িয়ে আরো বেশ কয়েকটি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে। বিটিভি নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ও টিভিসি দেশের পর্যটন বিপণনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি আরো জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ গঠন করা হয়েছে। গত ২০১৬ সালের ২৩ থেকে ২৫ নভেম্বরে কক্সবাজার সফলভাবে 'পাতা নিউ ফ্রনটিয়ারস ফোরাম ২০১৬' আয়োজন করার ফলে পর্যটন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি  পর্যটকদের নিকট বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরতে সম্প্রতি 'এক্সপ্লোরার অব ট্যুরিজম' নামের একটি ভিডিও চিত্র নির্মাণ ও প্রচার করা হচ্ছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত
সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী জানান, বিমান বন্দরের উন্নয়নে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ডুওয়াল ভিউ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংস্থা রেডলাইনের সুপারিশের ভিত্তিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে উন্নত করা হয়েছে। এ ছাড়া চোরাচালান রোধে বিমান বন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বিমান বন্দরে বিভিন্ন স্থাপনায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রী আরো জানান, বিমান বন্দরে  নিরাপত্তার বিষয়টি একটি সমন্বিত কার্যক্রম যাতে সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিমান, এপিবিএন, আনসার ইমেগ্রেশন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা যেমন ডিজিএফআই, ইউকে রেডলাইন সিকিউরিটি, দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট এবং এনএসআই সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। এ বিষয়ে একটি সমন্বিত সভা প্রতিমাসে অনুষ্ঠিত হয়। বিমান বন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুসমূহ নিয়ে আলোচনা হয়। সে মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিমানবহর আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিমানের পুরাতন এ-২৮ ও ডিসি ১০-৩০ উড়োজাহাজ ফেউজ আউট করা হয়েছে। ৩১০-৩০০ উড়োজাহাজ ফেউজ আউট করার লক্ষ্যে গ্রাউন্ডেট করা হয়েছে। বোয়িং কম্পানির কাছ থেকে নতুন প্রজন্মের চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ ২০১১/২০১৪ সালে ও দুইটি ৭৩৭ ৮০০ উড়োজাহাজ ২০১৫ সালে বিমানবহরে সংযোজনের মাধ্যমে বহর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফলে বিমানের উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত ব্যয়সহ জ্বালানি খরচ কমেছে। সি-চেক মেইন্টেনেন্স সর্ম্পকে বিমানমন্ত্রী জানান, বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর ও ৭৭৭-২০০ ইআর ও ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের সি-চেক মেন্টেনেইন্স বিমানের নিজস্ব জনবল বা রিসোর্স দ্বারা সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে। দুই অর্থবছরে লাভ ৬০০ কোটি টাকা
সরকারি দলের বেগম সফুরা বেগমের প্রশ্নের জবাবে বিমানমন্ত্রী জানান, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৬০০ কোটি ১২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লাভ করেছে। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩২৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৭৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা লাভ করেছে। রাশেদ খান মেনন জানান, ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ২৬টি অর্থবছরে বিমান লাভ করেছে ১২ অর্থবছর। এর মধ্যে ১৯৯১-৯২ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে ৬৯ কোটি ৬১ লাখ ১২ হাজার টাকা, ১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরে ৭০ কোটি ৭০ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে ৭২ কোটি ৭১ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ৩৪ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ১৯৯৮-৯৯ অর্থ ১৬ কোটি ২৯ লাখ ২৯ হাজার টাকা, ১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরে ১৩ কোটি ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ৩৪ কোটি ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে পাঁচ কোটি ৯১ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ১৫ কোটি ৫৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩২৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৭৫ কোটি ৯৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা লাভ করেছে। বিমান বিগত ১৪টি অর্থবছরে লোকসান দিয়ে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, ১৯৯০-৯১ অর্থবছরে ২৭ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে ৮১ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে ৪৪ কোটি ৫১ লাখ পাঁচ হাজার টাকা, ২০০০-০১ অর্থবছরে ৯৩ কোটি ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা, ২০০১-০২ অর্থবছরে ৭৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০০২-০৩ অর্থবছরে ৪৪ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে ১৯১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ৪৫৪ কোটি ৭১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে ২৭২ কোটি ১৭ লাখ ১১ হাজার টাকা, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৪৬ কোটি দুই লাখ আট হাজার টাকা, ২০১০-১১ অর্থবছরে ২২৪ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৫৯৪ কোটি ২১ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২৮৫ কোটি ৬৩ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২৮৫ কোটি ৬১ লাখ ২২ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ

পর্যটন এর আরো খবর