মনের পুকুর

ক্যানভাস থেকে অপূর্ব কোনো শিল্পকর্ম বাস্তবে রূপ নিলে সেটা অভূতপূর্ব হয়ে ওঠে। তা আর নেহাত চোখে দেখার সীমায় আটকে থাকে না। শিল্পকর্মটির জগতে সশরীরে ঘোরাফেরা করা যায়। এর উপাদানগুলো হাত দিয়ে ছোঁয়াও যায়। অনুভব করা যায় সেসব উপাদানের কাঠিন্য বা কোমলতা, উষ্ণতা বা শীতলতা। শুস্কতা বা সিক্ততার অনুভূতিটিও উপভোগের নাগালে পাওয়া যায়। পঞ্চইন্দ্রিয়ের সীমায় এসে শিল্পকর্মটি আরও গভীর হয়ে ওঠে। আরও প্রসারিত হয় উপলব্ধির জগৎ। এমন ভাবনাই 

যেন বাস্তব হয়ে উঠেছে জাপানে। পর্যটকরা একে 'মনের পুকুর' বলে ডাকেন। কারণ আর কিছু নয়, এটি দেখতে যেন ফরাসি শিল্পী ক্লদ মনের বিখ্যাত সেই চিত্রশিল্প 'শাপলা পুকুর'টি। এখানেও রয়েছে ছবির সেই প্রশান্ত ও নির্জন পরিবেশ, আর অকৃত্রিম প্রকৃতির ছোঁয়া। এখানে ঘুরতে আসা যে কারোই মন ডুবে যায় এর সৌন্দর্যে।

ক্লদ মনে ফ্রান্সের গিভারনিতে নিজের বাড়ির সামনের শাপলাভরা নির্জন পুকুরটিকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। আর তা শত বছর ধরে দর্শকের চোখে প্রশান্ত নির্জনতার প্রতীক হয়ে আছে। ক্যানভাস থেকে এটি যেন ফের জাপানের সেকি শহরের প্রান্তে গিফু প্রিফেকচার এলাকায় নেমেও এলো। সেখানাকার একটি পাহাড়ের পাদদেশে খুদে একটি বৌদ্ধমন্দিরের পাশেই রয়েছে পুকুরটি। কয়েক বছর আগেও এ জায়গাটি ছিল অখ্যাত, অপরিচিত। তবে পুকুরটি ও এর আশপাশের পরিবেশের ছবি যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, সবাই একে মনের পুকুর বলেই ডাকতে শুরু করে। মনের ছবির সঙ্গে এর অপূর্ব সাদৃশ্য দেখে মানুষজন এখানে বেড়াতে আসতে শুরু করে। শুরু হয় এর সৌন্দর্যে প্রশংসা। এর পানি স্বচ্ছ ও টলটলে। দিনের আলোর সামান্য তারতম্যে এর রঙও পাল্টে যেতে থাকে। ম্যাপল গাছে ঘেরা পুকুরটিতে ফুটে আছে শাপলা। লতানো জলজ উদ্ভিদের আশপাশে ঘুরছে নানা রঙের মাছ। মজার ব্যাপার, প্রথমে পুকুরটি মনের ছবির কথা ভেবে তৈরি করা হয়নি। ইটাডোরি ফ্লাওয়ার পার্ক কর্তৃপক্ষ ১৯৯০ সালের দিকে এতে শাপলা রোপণ করে ও মাছ ছাড়ে।