মানুষ-বানর সংকর!

মানুষ ও বানরের সংকর ভ্রূণ তৈরিতে সফলতার দাবি করেছেন স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী! সম্প্রতি চীনের এক গবেষণাগারে তারা শিম্পাঞ্জির ভ্রূণে মানুষের স্টেম সেল যোগ করতে সফল হয়েছেন। আইনি বাধা না থাকলে এ ভ্রূণটিকে শিম্পাঞ্জির গর্ভে স্থাপন করে জন্ম দেওয়া সম্ভব হতো বলেও তারা দাবি করেন। খবর দ্য ইনডিপেনডেন্টের।

বিজ্ঞানীরা এ পরীক্ষার সফলতাকে গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তারা আশা করছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন অঙ্গ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। শিম্পাঞ্জি ও বানরজাতীয় প্রাণীদের নিয়ে তারা এ ধরনের আরও পরীক্ষা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। 

বিজ্ঞানীদের এ দলটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাল্ক্ক ইনস্টিটিউট ফর বায়োলজিক্যাল স্টাডিজ এবং স্পেনের ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত। এ সংকর  ভ্রূণটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেন স্পেনের বিজ্ঞানী হুয়ান কার্লোস ইজপিসুয়া। 

ওই পরীক্ষায় বানরের ভ্রূণে মানুষের স্টেম সেল প্রবেশ করিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখতে পান, তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তা থেকে টিস্যু তৈরি হচ্ছে। তবে ভ্রূণটিকে ১৪ দিনের বেশি বাড়তে দেওয়ার আইনি সুযোগ ছিল না। এ পরীক্ষায় মানুষের স্টেম সেল যুক্ত করার আগে শিম্পাঞ্জির ভ্রূণটিতে জিনগত পরিবর্তন আনা হয়। যেসব জিন অঙ্গের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে, সেগুলোকে নিষ্ফ্ক্রিয় করে দেন বিজ্ঞানীরা। 

স্পেনের এল পাইস পত্রিকায় এ খবর প্রকাশের পরপরই এ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। বার্সেলোনা রিজেনারেটিভ মেডিসিন সেন্টারের গবেষক অ্যাঞ্জেল রেয়া বলেন, মানুষের স্টেম সেল থেকে শিম্পাঞ্জির মস্তিস্ক কোষ তৈরি হতে পারে। এমন হলে বানরের মাথায় মানুষের বুদ্ধি কাজ করবে, যা ভাবা যায় না। কী হবে যদি মানুষের স্টেম সেল থেকে শিম্পাঞ্জির শুক্রাণু কোষ তৈরি হয়!

তবে এ পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী মার্সিয়া ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এসত্রেল্লা নানেজ বলেন, এক্ষেত্রে এমন কৌশল তৈরি করা হয়েছিল, যাতে দুর্ঘটনাবশত মানুষের কোষ থেকে যদি শিম্পাঞ্জির মস্তিস্ককোষ তৈরি হতে থাকে, তাহলে সেগুলো নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, এ পরীক্ষার ফল খুবই আশাপ্রদ।

সর্বশেষ সংবাদ