ব্রোঞ্জ যুগের স্বর্ণের রিং

পৌরাণিক কাহিনীমতে, বর্তমানের আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যান্ড মিলে ছিল প্রাচীন স্বর্ণনগরী এল ডোরাডো। এ রাজ্যে অফুরন্ত স্বর্ণের মজুদের গল্প এখনও প্রচলিত। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ থেকে ৫০০ অব্দ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের অধিবাসীরা পাহাড় ও নদীতে থাকা স্বর্ণ খুঁজে বের করতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। ওয়াটারফোর্ডের দুনগারভান থেকে স্ট্রাডব্যালি পর্যন্ত এলাকাটি স্থানীয়ভাবে স্বর্ণ উপকূল হিসেবে পরিচিত। এখানেই সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ পাওয়া যেত। কিন্তু হাজার বছরের অভিবাসনের ফলে স্বর্ণ সংগ্রহের  ওই জ্ঞান হারিয়ে গেছে। এ কারণে দেশটিতে এখন খুব কম স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়।

আয়ারল্যান্ডে স্বর্ণ মজুদের এমন ধারণার পক্ষে অনেক প্রমাণও রয়েছে। এখন পর্যন্ত ইউরোপের যে কোনো স্থানের তুলনায় আয়ারল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি প্রাচীন স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলোর বেশির ভাগই ব্রোঞ্জ যুগের। ২০১৮ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গুপ্তধনের খোঁজ মেলে। ওই বছরের জুলাইয়ে 'আইরিশ টাইমস' পত্রিকার একটি নিবন্ধে ঘোষণা করা হয়, পূর্ব ডোনেগালের কনভয় এলাকার কাছে টুলিডোনেল লোয়ার এলাকার মাটির নিচ থেকে সবচেয়ে বড় গুপ্তধনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চারটি স্বর্ণের রিং রয়েছে, যা ব্রোঞ্জ যুগের প্রথম দিকে তৈরি করা। রিং চারটির ওজন প্রায় চার কেজি। এগুলো চমৎকার ও প্রায় অবিকল অবস্থায় পাওয়া গেছে। রিংগুলো খ্রিষ্টপূর্ব ১২০০ থেকে ৮০০ অব্দের মধ্যে তৈরি করা হয়। সেগুলো এখন আয়ারল্যান্ডের জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। 

আকার দেখে অনেকেই রিংগুলোকে হাতের বালা মনে করতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ, রিংগুলোর ভেতরে মানুষের হাত ঢোকানো কঠিন। মূলত স্বর্ণ সঞ্চয় করে রাখার জন্যই এগুলো তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি তাদের। সম্ভবত ওই সময়ে প্রচলিত স্বর্ণমুদ্রা গলিয়ে রিংগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সংবাদ