ঘাম ঝড়ানো এশিয়া কাপ ভারতের

বাংলাদেশের দেওয়া ২২৩ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমেও ঘাম ঝড়িয়েই এশিয়া কাপের শিরোপা জিততে হয়েছে ভারতকে। ম্যাচের শেষ বলে নেওয়া রান থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩ উইকেটের জয় পায় ভারত।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের জয় যতটা সহজ মনে করা হচ্ছিল তা মোটেও হতে দেননি টাইগার বোলাররা। ভারতীয় ব্যাটিং ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং-এ ভারতীয়দের চাপের মধ্যে রাখে মাশরাফি, রুবেল এবং মোস্তাফিজুররা। জয়ের স্বাদ নিতে ভারতীয়দের অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত।

দলীয় ২১২ রানে রবিন্দ্র জাদেজা এবং ২১৪ রানে ভুবনেশ্বর কুমারকে সাজঘরে ফেরালে ম্যাচে চলে আসে টান টান উত্তেজনা।

তবে শেষ ওভারের সমীকরণ ছিলো ৬ বলে ৬ রান। আর বাংলাদেশের দরকার ছিলো উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে রাখা। কিন্তু কেদার ইয়াদাভ আর কুলদিপ ইয়াদাভ মিলে তৃতীয় বারের মতো এশিয়া কাপের খুব কাছে থাকা বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত শিরোপা বঞ্চিত করেন।

ভারতের হয়ে অধিনায়ক রোহিত শর্মা ৪৮ রান (৫৫ বল), দীনেশ কার্তিক ৩৭ রান (৬১ বল) এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি ৩৬ রান (৬৭ বল) করেন। আর মোস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন নেন ২টি করে উইকেট। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি, নাজমুল ইসলাম অপু এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ নেন ১টি করে উইকেট।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিং এর আমন্ত্রণ জানান ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। বাংলাদেশের জন্য দারুণ এক শুরু করেন দুই ওপেনার লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজ। লিটন তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। ১১৭ বলে ১২১ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। ওপেনিং জুটি থেকে দলকে ১২০ রান এনে দেন এই দুই ব্যাটসম্যান।

এরপরের ছবি ছিলো বাংলাদেশের জন্য অনেকটাই চিরাচরিত। আসা ও যাওয়ার মিছিল। লোয়ার মিডল অর্ডারে সৌম্য সরকারের ৪৫ বলে ৩৩ রান বাদ দিলে মুশফিক থেকে রুবেল হোসেন পর্যন্ত বাকিদের রান ছিলো টেলিফোন নম্বরের মতো। লিটন, মেহেদি ও সৌম্য ছাড়া দুই অংকের রান সংগ্রহ করতে পারেননি আর কোন ব্যাটসম্যানই। শেষ পর্যন্ত ৯ বল বাকি থাকতেই ২২ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন বাংলাদেশের লিটন দাস। আর টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন ভারতের শেখর ধাওয়ান।