বুফনের এমন বিদায় প্রাপ্য নয় : জিদান

পেনাল্টির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ম্যাচের শেষদিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জিয়ানলুইজি বুফন। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জিনেদিন জিদানের চোখে, বুফনের এমন বিদায় প্রাপ্য ছিল না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটাই তার শেষ ম্যাচ নয় বলেও আশাবাদী জিদান। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হারের পর বার্নাবুতে জুভিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সমাপ্তি ঘটে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতেই। ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে সেমির টিকিট কাটে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচ ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে পেনাল্টি ও বুফনের লাল কার্ড। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপ জয়ী ইতালিয়ান গোলরক্ষকের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জয়ের স্বপ্ন অধরাই রইলো। জিদানের বিশ্বাস, চল্লিশ বছর বয়সী বুফনের ভালোভাবে বিদায় প্রাপ্য। ২০০৬ বিশ্বকাপে নিজের শেষ পেশাদার ম্যাচে ইতালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে মাথা দিয়ে গুতো মেরে লাল কার্ড দেখা জিনেদিন জিদান বুধবার ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমি মনে করি না এভাবে চলে যাওয়াটা তার (বুফন) প্রাপ্য ছিল। কিন্তু এখন আর পেছনে ফিরে যাওয়া যাবে না। ম্যাচের শেষদিকে যা হয়েছে তাতে খেলাটির প্রতি বুফনের অবদান বদলাবে না কিংবা কোনো কিছু কেউ কেড়েও নিতে পারবে না। সে একজন চমৎকার খেলোয়াড় এবং সম্ভবত চ্যাম্পিয়ন্স লীগে এটাই তার শেষ ম্যাচ নয়।’ বুফনের সামনে বল পাওয়া লুকাস ভাজকেসকে পেছন থেকে ফাউল করায় রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলেই মনে করেন জিদান,  খেলোয়াড়রা আমাকে বলেছে এটা পেনাল্টি ছিল। আমি তা দেখিনি। রেফারির সিদ্ধান্ত আমরা বদলাতে পারবো না, কিন্তু আমি মনে করি এটা সঠিক পেনাল্টিই ছিল। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এসব পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত। সে কোনো চাপ অনুভব করেনি। পেনাল্টি থেকে গোল করেছে এবং আমরা জিতেছি (দুই লেগ মিলিয়ে)। এখানে আর কিছু বলার নেই।
পেনাল্টির সিদ্ধান্ত ছিল দুঃখজনক: অ্যালেগ্রি
রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে শেষ মিনিটে রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি। তবে শিষ্যদের লড়াকু পারফরম্যান্সে গর্বিত আলেগ্রি। চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে হেরেও সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে দুর্দান্তভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় জুভিরা। ৩-০ গোলের লিডে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায় ছিল। শেষ মুহূর্তে এসে পেনাল্টি পায় রিয়াল। ডি-বক্সে জিয়ানলুইজি বুফনের সামনে বল পেয়ে যান লুকাস ভাসকেজ। পেছন থেকে ফাউল করে বসেন ডিফেন্ডার মেধি বেনআতিয়া। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বুফন। স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এতে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ম্যাচ শেষে অ্যালেগ্রি বলেন, ‘এভাবে পেনাল্টি উপহার  দেয়াটা কঠিন। আমি সার্জিও রামোসকে (রিয়াল অধিনায়ক) মজা করে বলেছি, এটা ছিল একটি ধূসর পেনাল্টি। জুভেন্টাস চমৎকার একটি ম্যাচ খেলেছে। আমি খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাই। প্রথম লেগের ফলাফলের পর ঘুরে দাঁড়াতে ছেলেরা দারুণ খেলেছে। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, এটা প্রত্যাশিত ছিল, দু’জন বদলি খেলোয়াড় হাতে ছিল আমার। আর আমাদের সেমিফাইনালে ওঠার ভালো সম্ভাবনা ছিল।’