রবার্তো কার্লোসের জন্মদিন আজ

দারিদ্র্য, ক্ষুধা আর সংগ্রাম। মাত্র নয় বছর বয়সে যোগ দিতে হয়েছিল কফির বাগানে। এর মাঝেই সুযোগ চলে আসে রবার্তো কার্লোসের। এক ম্যাচে তাঁর দুরন্ত ফ্রি কিক চোখে পড়ে এজেন্টদের। এই ফ্রি কিকের জন্যই এক স্থানীয় ক্লাব তাকে নিয়ে নেয়। আজীবন এই ফ্রি কিক দিয়েই মানুষের মনে টিকে আছেন, থাকবেন টেকো মাথার এ লোকটা।

১০ এপ্রিল এ ফুটবল তারকার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন রবার্তো কার্লোস দ্য সিলভা রোচা, ‘দ্য বুলেট ম্যান’।

পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গতি আর বল। কিছু ফুটবলার এই ফুটবল পায়ে গতি আর বল কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর প্রত্যেক গোলরক্ষককে তটস্থ করেছেন। তাঁদেরই একজন কার্লোস। বল রেখে টানা ৫-৬ হাত পিছিয়ে পড়া। তারপর দৌড়ে এসে শট। গোলরক্ষকদের কোনো সুযোগ না দিয়েই চলে যেত সে বল—তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি কিক।

১৯ বছর বয়সে তাঁকে চোখে পড়ে অ্যাথলেটিকো মিনেইরোর। মিনেইরো তাদের ‘বি’ দলের সঙ্গে তাঁকে কোপা কনমেবোল কাপে পাঠায়। কোপা কনমেবোল কাপে যাওয়াই তাঁর জীবনের সেরা সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই কনমেবোল কাপ দিয়েই ব্রাজিলের হলুদ জার্সিটাও তাঁর গায়ে ওঠে। পরের বছর নতুন দল পালমেইরাসে পা দেন এ ফুটবল তারকা।

একটা সময় এসে ইন্টারের সঙ্গে যখন সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন হওয়ার পথে, তখনই এক প্রীতি ম্যাচে চমক দেখালেন কার্লোস। গোল দেখে বোকা বনে যান ফ্যাবিও ক্যাপেলোও। যখন জানতে পারলেন, এই খেলোয়াড়কেই ইন্টার ছেড়ে দিচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। তখন আর দেরি করেননি। সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান লেফট ব্যাককে রিয়াল মাদ্রিদে টেনে আনেন ক্যাপেলো। বিশ্ব নতুন করে চিনতে শুরু করে ফুলব্যাকের সংজ্ঞা।

রিয়ালের হয়ে তিনি ৩৭০ ম্যাচে করেছেন ৪৭টি গোল, জিতেছেন ৪টি লিগ শিরোপা, ৩টি করে চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং স্প্যানিশ কাপ। ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে, ১৯৯৭ সালে জিতেছেন ফিফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ারের রুপা, ২০০২ সালে হয়েছেন ব্যালন ডি’অর রানারআপ এবং দুবার করে জিতেছেন উয়েফা ক্লাব ডিফেন্ডার অব দ্য ইয়ার।

সর্বশেষ সংবাদ