ছোট হচ্ছে বাংলাদেশ গেমস

প্রায় ১০ হাজার অ্যাথলেটের বাংলাদেশ গেমস করোনাকালে পরিসর কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচ হাজারের কিছু বেশি অ্যাথলেট নিয়ে মুজিববর্ষে হবে এই গেমস। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা না গেলেও ফেব্রুয়ারিতে গেমস আয়োজনের লক্ষ্যেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।
 
গত এক সপ্তাহে গেমসে অংশ নিতে যাওয়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছে বিওএ। ইস্যু একটাই ছিল—খেলাগুলোতে দলের সংখ্যা কমানো। বাংলাদেশ গেমস মানে জাতীয় প্রতিযোগিতা, সবগুলো জেলা, সংস্থা, বাহিনী এতে অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু করোনাকালে সবাইকে সুযোগ দিতে পারছে না আয়োজকরা। প্রতিটি খেলারই সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের র্যাংকিং ধরে ১০ থেকে ১২টি দলকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে গেমসে। ফুটবলে যেমন সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে ওঠা ১০টি দলই শুধু অংশ নেবে গেমসে। হকিতে আবার একটাই হয় আসর। ২০১৭ সালে সর্বশেষ জাতীয় হকি যেমন হয়েছিল ৩২টি দল নিয়ে। ফেডারেশন চেয়েছিল তার ১৬টি দলকে বাংলাদেশ গেমসে সুযোগ দিতে। কিন্তু বিওএ শিথিলতা না দেখানোয় ১২টিতেই সীমিত থাকতে হচ্ছে তাদের। মেয়েদের দল থাকবে ছয়টি। হকিতে মেয়েদের এখনো জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ না হলেও গেমস দিয়েই তা শুরু হচ্ছে।
 
মার্চে করোনা সংক্রমণের আগে ভলিবলে গেমসের জন্য বাছাই পর্বের সূচি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সবগুলো জেলা, বাহিনী এবং সার্ভিসেস দলের তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু করোনায় সব খেলা বন্ধ হওয়ার পর এখন সীমিত পরিসরে হতে যাওয়া গেমসে আর সেই বাছাই পর্বের সুযোগই থাকছে না তাদের। ২০১৮ সালের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে এখন ১২ দল চূড়ান্ত করতে হচ্ছে তাদের। সে আসরের মূল পর্বেও আবার ১২টির বেশি দল থাকায় কাকে রেখে কাকে বাদ দেবে ফেডারেশন, এখন সেটি নিয়ে দ্বিধায়।
 
প্রায় ১০ হাজার অ্যাথলেটের বাংলাদেশ গেমস করোনাকালে পরিসর কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচ হাজারের কিছু বেশি অ্যাথলেট নিয়ে মুজিববর্ষে হবে এই গেমস। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা না গেলেও ফেব্রুয়ারিতে গেমস আয়োজনের লক্ষ্যেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)।
 
সাঁতার ফেডারেশনের জটিলতা আরো বেশি। সেখানে পদকের ইভেন্ট ৪২টি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয় ৫০০-র বেশি সাঁতারু নিয়ে। বিওএ সেখানে তাদের ২০০ জন নিয়ে অংশ নেওয়ার কথা বলেছে। সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভেবে পাচ্ছেন না কিভাবে সংখ্যাটা তারা এত কমাবেন, ‘৪২টি ইভেন্টে শুধু পদকই ১২৬টি। কিভাবে তাহলে আমরা ২০০ জন নিয়ে সব কিছু করব, আমার মাথায় আসছে না!’ বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের উপমহাসচিব আসাদুজ্জামান কোহিনুর বলেছেন করোনা পরিস্থিতিতে এ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, ‘আমার হ্যান্ডবলে ৫৫টা জেলা খেলে। আমাকে তো সেটা ১২ দলে নামিয়ে আনতে হচ্ছে। সবাই-ই সেটা করছে। সাঁতারে ইভেন্ট বাদ দিয়ে হলেও অ্যাথলেট কমাতে হবে।’
 
দাবায় গতবার (২০১৩ বাংলাদেশ গেমস) দলগত ইভেন্টে ২০টি দল অংশ নিয়েছিল। এবার তা ১০টি হয়ে যাচ্ছে। ভারোত্তোলনের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয় প্রায় আড়াই শ খেলোয়াড় নিয়ে। তারা ১০০-তে নামিয়ে আনছে সংখ্যাটা। জানা গেছে, ছেলে ও মেয়েদের ১০টি করে ২০টি ইভেন্ট ঠিকই থাকছে। তবে প্রতি ইভেন্টে পাঁচজনের বেশি অংশ নিতে পারবে না। করোনায় জনসমাগম এড়াতে সবগুলো ডিসিপ্লিনের খেলা একসঙ্গে না করার কথা ভাবা হয়েছে আগেই। কোনো কোনো খেলা হতে পারে ঢাকার বাইরেও। এবার খেলোয়াড় সংখ্যাও কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে করোনাকালে বিশেষ এক আসরই হতে যাচ্ছে এটি।

খেলা এর আরো খবর