আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি হবে না : মাহমুদউল্লাহ

'আমার মনে হয় না আমাদের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হবে। আমার মনে হয় প্রথম ম্যাচে দেখিয়েছি আমরা জিততে পারি। এই আত্মবিশ্বাস সবার ধরে রাখতে হবে যেন আমরা সিরিজটা জিততে পারি।’ ভারত-বাংলাদেশের ম্যাচ শেষে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ মাত্র ১৫৪ রানের টার্গেট দেয়। এই রান ভারতীয় অধিনায়ক একাই তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা রোহিত শর্মার ঝড়ে ভারত জিতে যায় ২৭ বল বাকি থাকতেই। সিরিজ ১-১ সমতা হয়ে যাওয়ায়  নাগপুরে সর্বশেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়াল অলিখিত ফাইনালে। ঘুর্ণিঝড় মাহার কোনো প্রভাবই পড়েনি রাজকোটে। সারা দিন রোদঝলমল করছিল গুজরাটের চতুর্থ বড় এই শহরে। দারুণ আবহাওয়ায় বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ম্যাচটি শুরু হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।  দিল্লিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে যাওয়াতে কোনধরণের চাপ ছিল না টাইগারদের সামনে। সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে মাঠে নামেন লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে  প্রথম ম্যাচের মতো টস ভাগ্য সহায় হয়নি রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে। ওই ম্যাচে টস জিতেলেও গতকাল টস হেরে ব্যাটিং করতে হয়েছে রিয়াদ-মুশফিকদের। মোহাম্মদ নাঈমের ঝোড়ো শুরুতে শুভসুচনা করে বাংলাদেশ। রাজকোটের এই মাঠে গড় রান ১৭০/১৮০। অর্থ্যাৎ এই রান হলে যেকোন দলের পক্ষে জেতা সম্ভব। কিন্তু মিডল অর্ডার ও লেয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ দুর্দান্ত শুরু করেও ১৬০ রানের ঘর পেরোতে পারেনি। অথচ পাওয়ার প্লেতে ৫৪ রান এসেছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ওভার শেষে ছয় উইকেট হারিয়ে ভারতকে ১৫৪ রানের লক্ষ্য দেয় টাইগাররা। টার্গেটে খেলতে নেমে শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলেন রোহিত শর্মা। নিজের শততম ম্যাচ খেলেতে নেমে মাত্র ৪২ বলে ছয়টি করে চার ও ছয়ের মারে ৮৫ রান করেন হিটম্যান রোহিত। মাত্র ২৩ বলে দেখা পান অর্ধশতকের। অর্ধেক রান আসে তার ব্যাট থেকেই। আর বাকি ব্যাটসম্যানদের কোনো কষ্ট করতে হয়নি। শিখর ধাওয়ানের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। দলকে জিতিয়ে ২৪ রানে স্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল আট রানে  অপরাজিত থাকেন। টাইগারদের হয়ে দুর্দনাত বোলিং করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। চার অভারে ২৯ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট খরুচে বোলার ছিলেন মোসাদ্দেক। তার ১ ওভারে থেকে আসে ২১ রান! নিজের নামের পাশে সুবিচার করতে পারেননি মোস্তাফিজ-শফিউল ও আল আমীনরা। এর আগে টস হেরে বব্যাট করতে নেমে টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। ৩১ বলে ৩৬ রানে আসে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে। দুজনেই করেন ৩০ রান। ২০ বলে দুই চার ও এক ছয়ের মারে সৌম্য  এই রান করলেও মাহমুদউল্লাহ করেন ২১ বলে। ঝোড়ো ইনিংসের আভাস দিয়ে দুজনেই ফিরে যান সাজঘরে। দুই দুইবার জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি লিটন দাস। ১৭ রানে জীবন পাওয়ার পর ২৯ রানে সাজঘরে ফেরেন পান্থের হাতে রানআউটের শিকার হয়ে। ২১ বলে চার চারের মারে তিনি এই রান করেন।  প্রথম ম্যাচে জয়ের নায়ক মুশফিক ছিলেন ব্যর্থ। ছয় বলে চার রান করে ক্রুনাল পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। প্রথম ম্যাচে দিল্লিতে এই পান্ডিয়াই বাউন্ডারি লাইনে মুশফিকের ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন, এই ম্যাচে আর ভুল করেননি। নাঈম আউট হঅয়ার পর ক্রিজে এসেছিলেন মুশফিক, সৌম্যর সঙ্গে একই ওভারে আউট হয়ে গেলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। দিল্লিতে ব্যাটিং করতে নামতে হয়নি আফিফ হোসেনকে, তবে বোলিংয়ে দুর্দান্ত করেছিলেন। কিন্ত রাজকোটে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন আই বাঁহাতি তরুণ তুর্কী। মোসাদ্দেক হোসেন সাত ও আমিনুল ইসলাম পাঁচ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের হয়ে সবচেয়ে কৃপণ বোলিং করেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও দীপক । দুজই  চার ওভারে ২৫ রান করে দিয়ে তিনি তুলে নেন একটি করে  উইকেট। সবচেয়ে খরুচে ছিলেন খলিল আহমেদ। চার অভারে ৪৪ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি।  যুজবেন্দ্র চাহাল চার ওভারে ২৮ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট।

খেলা এর আরো খবর