দূর্নীতি রোধে বেসরকারী খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিশন গঠিত

বাংলাদেশের প্রাচিনতম ও বৃহত্তম মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে দেশব্যাপী ৩৬০ টি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা শাখার মাধ্যমে ৮৯২৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর মানবতাবোধ ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় নিরলশ কাজ করে চলেছে। সংস্থার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ২৫ জানুয়ারী, ২০২০ তারিখে সংস্থার ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী         ও পঞ্চদশ জাতীয় সম্মেলন, ২০২০, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার এশোসিয়েশনস্ অডিটোরিয়াম ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়।
 
সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সিগমা হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান মন্ত্রীর শিল্প ও বেসরকারী বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা, খ্যাতিমান শিল্পপতি সালমান এফ রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মান্নান। 
 
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা দীর্ঘ ৪২ বছর যাবৎ বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপুর্ণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী পাকিস্তান সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর মানবাধিকার রক্ষার অসমাপ্ত কাজ বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা পরিচালনা করছে। সম্মেলনের মাধ্যমে সংস্থার পক্ষ থেকে সংস্থার ৪, কলেজ রোড, শাহবাগ-এ নিজস্ব জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ভবন নির্মাণ প্রস্তাবকে তিনি সাধুবাদ জানান এবং এই ভবন নির্মাণে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ভবন’ নির্মাণ সংস্থার প্রস্তাব মুজিব শতবর্ষ উদযাপনের একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি মাদক, জঙ্গীবাদ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ভূমিকার রাখার জন্য সংস্থাকে অনুরোধ করেন। তিনি মানবাধিকার রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় ঢাকার এ্যাডভোকেট আতাউর রহমান খান আজাদ, খুলনার এ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রামের মুখলিসুর রহমান ফরহাদী, ঝিনাইদহের আমিনুল ইসলাম টুকু, সিলেটের এ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন ও সৈয়দ আকরাম আল শাহানকে মানবাধিকার পদক প্রদান করেন।
 
সম্মেলনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে সভাপতি করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধে মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।      এই কমিশনের অন্যান্যা সদস্যরা হলেন সাবেক জেলা ও দায়রা জজ জনাব তারেক হায়দার, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ জনাব আব্দুল মান্নান, ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা ও এ্যাডভোকেট জাহানারা বেগম।  
 
‘সম্মেলনের বিশেষ অতিথি ঐজঈচঈ-র নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব এএইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ মানবাধিার বাস্তবায়ন সংস্থা, ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে জনমত গঠন ও সুবিচার প্রাপ্তিতে বিশেষ অবদান রেখেছে এছাড়াও সংস্থা দেশের অনেক চাঞ্চল্যকর মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে মানবাধিকার বাস্তবায়নে অমূল্য অবদান রেখে আসছে।’ 
 
সংস্থার সম্মেলনের ২য় অধিবেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘ঐজঈচঈ  দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা প্রতিপক্ষ কোনো সংগঠন নয়, বরং এটি হবে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সহযোগী সংগঠন। বেসরকারী খাতে তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে যেখানে দুর্নীতি দমন  কমিশনের হস্তক্ষেপে বিব্রতবোধ ও প্রতিবন্ধকতা বা স্পর্শকাতরতা থাকবে,  সেক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাহায্য করাই হবে ঐজঈচঈ-র অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এত কিছু করার পরও, যদি দুর্নীতি দমন কমিশন ঐজঈচঈ সংগৃহিত তথ্যের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে ঐজঈচঈ স্বয়ং দুর্নীতি প্রতিরোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 
 
সম্মেলনে সংস্থার জেলা-উপজেলার প্রায় ৫০০ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের ব্যাপক করতালির মধ্যে দিয়ে সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, আমি আইনের মাধ্যমে      এই অভিযোগের মোকাবিলা করছি কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, দুর্নীতি প্রতিরোধের আমার যে অঙ্গীকার, আইনের শাসন শক্তিশালীকরণ ও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার মধ্য দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমার যে ঈড়সসরঃসবহঃ সেই অঙ্গীকার থেকে আমি সরে দাঁড়াবো। একজন সিনিয়র বিচারপতি হিসাবে ব্যারিষ্টার শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ইতিমধ্যেই বিচারপতি হিসেবে তার দক্ষতা, যোগ্যতা ও সাহসের স্বাক্ষর বাংলাদেশের বিচার অঙ্গনে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে রেখেছেন। আজ দেশব্যাপী মানবাধিকার নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছার প্রতিফলনে নির্বাচিত ঐজঈচঈ চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী দুর্নীতি প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সংরক্ষণে রাখতে পারবেন বলেই মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার হাজার হাজার নেতাকর্মীরা মনে করে।’ 
 
সম্মেলনে এ্যাডভোকেট সিগমা হুদা চেয়ারম্যান, জনাব তারেক হায়দার, কার্যকরী চেয়ারম্যান ও এ্যাডভোকেট জাহানারা বেগমকে মহাসচিব নির্বাচিত করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি অনুমোদিত হয়। 
 
 

সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিবেদন এর আরো খবর