দুদককে নাজমুল হুদা
মামলাটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রনোদিত

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার একটি মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখোমুখি হন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয় তার। সে সময় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় নিজের অবস্থানের কথা পরিস্কার করেন তিনি।
নিজের বক্তব্যে ব্যারিস্টার হুদা বলেন, ‘মামলাটি অসৎ উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় রুজুকৃত আমার Quashment Petition এর Para ৪ ও ৫ এ বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কিভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে আমার স্ত্রী সিগমা হুদাকে আপীল বিভাগ কর্তৃক জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও ৭২ ঘন্টা অবৈধভাবে আটক রাখা হয় এবং তড়িঘড়ি করে সুত্রস্থ মামলা দায়ের করে একই দিনে shown arrest দেখিয়ে তার মুক্তি বিলম্বিত করা হয়।’

ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১ক ধারায় মহামান্য হাইকোর্টে দায়েরকৃত পিটিশনটিরও ওই সময় জমা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘আমি কি মাসে ২৫,০০০ টাকা ঘুষ খাওয়ার লোক, তাও আবার চেক জমা দেওয়ার মাধ্যমে? সাপ্তাহিক খবরের অন্তরালের একাউন্টে যে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে তা পত্রিকাটিতে মার্গানেট প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞাপন ছাপানোর জন্য। সেই টাকা কোন বিবেচনায় ঘুষ হয়? এটি আমার বিরুদ্ধে-গভীরতম ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই না। আসলে আমি এর হিসাব মিলাতে পারছি না।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘হাইকোর্টের এই সুবিবেচিত রায়টির বিরুদ্ধে আপীল বিভাগে কেন আপীল হলো এ বিষয়টি দুদকের মাননীয় চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করব তদন্ত করতে। কোনো আইনজীবির মোটা অংকের ফিস পাওয়ার লোভেই এটা হলো কিনা!

‘না বললেই নয়, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে এই রায়টি বাতিল করেছেন, যে কারণে আজ আবার মামলাটি তদন্তাধীন হয়েছে।এস কে সিনহার এই দুর্নীতির খতিয়ান আমারই দায়েরকৃত শাহবাগ থানা মামলা নং ৪৯ তারিখ- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ এর এজাহারে বিস্তারিত বিবৃত হয়েছে।’

এ সময় নাজমুল হুদা মার্গানেটের চেয়ারম্যান আর এ হাওলাদারের শপথকৃত একটি এফিডেভিটও জমা দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ অক্টোবর সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন নাজমুল হুদা। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, ‘২০১৭ সালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা আমাকে তার খাসকামরায় ডেকে মোট সোয়া তিন কোটি টাকা ঘুষ চান। তবে আমি তাঁকে ওই ঘুষের টাকা দিইনি। কয়েকটি মামলা থেকে রেহাই এবং ব্যাংক থেকে টাকা অবমুক্ত করে দেওয়ার আদেশ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি ওই টাকা দাবি করেছিলেন।’

নাজমুল হুদা বলেন, ‘এস কে সিনহা ঘুষ আদায়ের জন্য আমার বিরুদ্ধে খারিজ হওয়া একটি মামলা পুনরুজ্জীবিত করেন। আর সেই মামলাসহ আরও একটি মামলা থেকে রেহাই দিতে দুই কোটি টাকা আর ব্যাংকে আটকে যাওয়া টাকা অবমুক্ত করে দেওয়ার জন্য সেই টাকার অর্ধেক দাবি করেন। তাতে আসে সোয়া কোটি টাকা। আমি তাকে কোনো টাকা দিইনি। এটা ছিল ঘুষ নেওয়ার প্রচেষ্টা।’ মামলাটির তদন্ত করছে দুদক।

বিশেষ প্রতিবেদন এর আরো খবর