বিদায় ১৪২৪
ঝলমলিয়ে উঠলো নতুন বছর

'অতীত নিশি গেছে চলে/ চিরবিদায় বার্তা বলে, কোন আঁধারের গভীর তলে/ রেখে স্মৃতিলেখা/ এসো এসো এসো ওগো নবীন/ চলে গেছে জীর্ণ মলিন-/ তুমি মৃত্যুবিহীন/ মুক্ত সীমারেখা।' প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ এমনভাবেই পুরনো পৃথিবীতে নতুন প্রত্যাশা আর সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। আজ সেই দিন, নতুনকে স্বাগত জানানোর। গতকাল শুক্রবার সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে কালের মহাতরঙ্গে মিলিয়ে গেছে একটি বছর। আজ শনিবার সূর্যোদয় নব প্রত্যাশার ডানা মেলে ঝলমলিয়ে উঠলো নতুন বছরের আবেশে। গতকাল শুক্রবার, বঙ্গাব্দ ১৪২৪-এর ৩০ চৈত্র, বছরের শেষ দিন, চৈত্রসংক্রান্তি। আজ থেকে বাংলা পঞ্জিকা থেকে মহাকালের কৃষ্ণগহ্বরে চিরতরে হারিয়ে গেলো বঙ্গাব্দ ১৪২৪।
জ্যোতির্বিজ্ঞান-সংক্রান্ত প্রাচীন গ্রন্থ 'সূর্যসিদ্ধান্ত' থেকে নক্ষত্রমণ্ডলে চন্দ্রের আবর্তনে বিশেষ তারার অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ মাস চৈত্রের নাম রাখা হয় চিত্রা নক্ষত্রের নামে। শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে, বাংলা মাসের শেষ দিনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। গ্রীষ্ফ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে আকুল কৃষকরা চৈত্র মাসজুড়ে কামনা করে- বৃষ্টি নামুক। যাতে অসহনীয় পরিবেশ থেকে মানুষের মুক্তি ঘটে আর চাষাবাদের অনুকূল পরিস্থিতিও দেখা দেয়। সূর্য তার রুদ্ররূপে উপস্থিত হয় এ সময়। চৈত্রসংক্রান্তিতে নানা উপাচারের নৈবেদ্য দিয়ে তাকে তুষ্ট করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

 

বিশেষ প্রতিবেদন এর আরো খবর