কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা এখন ৮ লাখ
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। সংকট মোকাবেলায় বিপুল সংখ্যক এই শরণার্থীদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের চাহিদার কথা জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেবে গত ২৫ আগস্ট থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ করা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ ৮০ হাজার। বিধিনিষেধ তুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের পর জাতিসংঘ হুট করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই সংখ্যা বৃদ্ধির কথা জানালো। এর আগে সংস্থাটির পক্ষ থেকে চার লাখ ৫০ হাজার শরণার্থীর কথা বলা হচ্ছিলো। অতীতের বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে ১৯৯১ সাল থেকে কুতুপলং এবং নায়াপাড়ার দুই ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে ছিলেন তিন লাখের বেশি শরণার্থী। এই মিলিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকায় এখন ৮ লাখের বেশি শরণার্থী জায়গা করে নিয়েছেন। গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সেনা অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে পাচঁ হাজার মানুষ। তাদের মধ্যে সিংহভাগই শিশু। আবার এই শিশুদের মধ্যে পরিবার বিচ্ছিন্ন শিশুর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ মিয়ানমার থেকে আসার সময়ই অসুস্থ ছিলেন। বিশেষ করে বাচ্চারা বেশি অসুস্থতায় ভুগছে। বিপুল পরিমাণ এই শরণার্থীদের জন্য আরও বেশি সংখ্যায় পায়খানা নির্মাণের প্রয়োজন। অন্যথায় ঘনবসতির কারণে এখানে রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাবে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্বে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা তালিকায় তিন লাখ ৫০ হাজারের হিসেব বাদ গিয়েছিল। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই শত শত রোহিঙ্গা টেকনাফ ও কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছেন।

বিশেষ প্রতিবেদন এর আরো খবর