বিচার চায় অসহায় মা
সোহানের মৃত্যুর জন্য দায়ি কে ...!
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

মোঃ সোহান খান। বয়স পনেরো। উচ্চতা ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি। ওজন ৫৩ কেজি। খিলগাওঁ নন্দীপাড়া ব্রীজ ব্যাংক কলোনী নন্দী পাড়া আইডিয়াল স্কুলের অষ্ঠম শ্রেনীর ছাত্র। মেধাবী, সৎ, চরিত্রবান। একজন পিতা হারা কিশোর। অসহায় মায়ের শেষ অবলম্বন। সেই অবলম্বনকে ঘিরে যে মায়ের শেষ ভরসা তার জীবনে হঠাৎ এক আচমকা কালো মেঘ এসে সব কিছু উলাটপালাট করে দিয়েছে। সোহানের এই করুণ জীবনের জন্য দায়ী কে ..!
অসহায় মা’য়ের আকুতি :
 
‘কলম ধরতে পারছি না। খুব বেশী কষ্ট হচ্ছে। কলম যেন আর চলে না। বেঁচে থাকার আশা ভরসা শক্তি সাহস রসদ সব যেনো চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। পৃথিবী আমার এখন ধূধূ সাহারা মরুভূমি। সব অন্ধকার। খাওয়া গোসল ঘুম কিছুই আমার নেই। শুধুই মনের জোড়ে বেঁচে আছি। আর বেঁচে আছি শুধূ বিচার পাবার আশায়।
এর সঠিক বিচার না হলে হয়তো আমার বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব হয়ে যাবে। চেষ্ঠা করেও কলম ধরতে পারি নাই। আজ আমি শেষ চেষ্ঠা করছি। তা না হলে আমার সন্তানের আত্মা ও শান্তি পাবে না। আমি শিশু ও নারী নির্যাতন নিয়ে লিখি। প্রতিবাদ করি। অথচ আমার সন্তানের সাথে যে নির্যাতন অবিচার অন্যায় হলো তা নিয়ে লিখবে কে ? প্রতিবাদ করবে কে ? আমি কাউকে পাচ্ছিনা। আমি এখন শুধু এ লেখাটা লেখবার জন্যই বেচেঁ আছি।
আমার সন্তান মোঃ সোহান খান। বয়স পনেরো। উচ্চতা ৫ ফিট ৭ ইঞ্চি। ওজন ৫৩ কেজি। গায়ের রং উজ্জল। চেহারাটা বেশ সুন্দর। খিলগাওঁ নন্দীপাড়া ব্রীজ ব্যাংক কলোনী নন্দী পাড়া আইডিয়াল স্কুলে পরতো অষ্ঠম শ্রেনীতে। খুব মেধাবী সৎ চরিত্রবান। শান্ত ভদ্র স্বভাবের। পাচঁ ওয়াক্ত নামাজ পারতো। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতো না। খুব পরিচ্ছন্ন এবং গোছালো ছিল। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ পরে এসে আগে কোরআন তেলাওয়াত করতো। তার পার ভাত খেতো। এই বয়সে দুবার কোরান খতম করেছে। মেয়েদের মতো ঘরের কাজ করতো। বাইরের কোন বাজে আড্ডা ছিল না। সব মিলিয়ে একজন ভদ্র ভাল মানুষ। ক্লাস ফাইভে (এ+) পেয়েছিলো। এবারও সে (এ+) পাবে সে আসায় সবাই ছিল। সোহান ভালো নাচতো এবং গাইতো অনেক স্বপ্ন ছিলো ভবিষ্যতে ওকে নিয়ে। গত শুক্রবার ১লা সেপটেম্বর কোরবানীর ঈদের আগের রাতে আমার ছেলে কোরবান হয়ে গেলো। এ দুঃখ সইবার ক্ষমতা আমার নেই। আমার স্বামী মারা গেছে প্রায় দের বছর আগে ছেলেটাকে নিয়ে আমি বেচেঁ ছিলাম। ভালো থাকার চেষ্ঠা করছিলাম। আর কোনো কিছুই ভাবতে পারি নাই। শুধু ওর জন্য। ও শুধু আমার সন্তান নয়, ও আমার জীবন যোদ্ধা। ও আমার বেচেঁ থাকার একমাত্র অবলম্ভন। ও আমার ভালো বন্ধু ছিল। যার কাছে কখনই কোনো কিছু গোপন করি নাই। করতাম না। সব শেয়ার করতাম। ওর সাথে আলাপ করেই সব করতাম। ওকে জিজ্ঞেস করে, ওর পছন্দ মতো রান্না করতাম। ওর খুশীতেই আমি হাসতাম। আমার পৃথিবী ছিল আমার সন্তান। গত শুক্রবার বিকেল পাচঁটায় আমার ছেলে আমাকে বললো ‘আম্মু আমি একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি’। এই বলে যে বাইরে গেল আমি বসে আছি, সন্ধা সাড়ে ছয়টার সময় চারটা ছেলে এসে আমাকে ডাকলো। বললো - আমাদের সাথে আপনাকে যেতে হবে। আমি বললাম, তোমরা কে? ওরা আমাকে বললো, আমরা সোহানের বন্ধু। আমি বললাম, সোহানের বন্ধুদেরতো আমি চিনি। তোমাদের তো চিনি না। তোমরা আসলে কে? সোহান কোথায় ? আমাকে কোথায় যেতে হবে? ওরা বলল, আপনাকে নেওয়াজ বাগ যেতে হবে। আমি বললাম, কেন? ওরা বলল, সোহান ওখানে বসে আছে। তাই আমি বললাম, কেন বসে আছে কি হইছে বলোতো? কে যেতে বলেছে? আমাকে ওরা বলল, রহমত আলী পাঠিয়েছে। চলেন আমাদের সাথে। আমি তাড়াহুড়া করে ছুটতে লাগলাম ওদের সাথে। জিজ্ঞেস করলাম, বলোতো আসলে কি হইছে? আমাকে কোথায় নিচ্ছো? কেন নিচ্ছো ? ওরা কিছুই বলছেনা। আমি ওদের পিছন পিছন গেলাম। পনেরো মিনিটের মতো লাগলো আমি পৌছালাম। একটা মার্কেটের গলিতে দেখলাম প্রচুর ভীড়। প্রায় এক দেরশ’ লোকের সমাগম। বুঝে উঠতে পারছিলাম না। ভীতরে ডুকতেই অনেকেই বলল, ঐতো সোহানের মা এসেছে। আমি যেয়ে একটা চেয়ারে বসলাম। দেখলাম আমার সোহান মাথা নীচু করে বসে আছে। তার দিকে তাকিয়ে আমার বুকটা আতকে উঠলো। আমার সোহানের চুলগুলো খুব এলোমেলো শাটের বোতাম গুলো খোলা। দুপায়ের ট্রাউজারে হাটুতে কাদা। খুব বিধ্বস্ত অবস্থা। আমার খুব খারাপ লাগছিলো। বেশ কিছু লোকজন মাতবরের মত ভাব ধরে পায়ের উপর পা দিয়ে সিগারেট খাচ্ছিল। বেয়াদবের মতো। খুব খারাপ লাগছিলো। আর ঐ লোকগুলোকে জিজ্ঞেস করলাম, কি হইছে? আপনারা কারা? আমার ছেলের এই অবস্থা কেন? ওরা বলল, আপনাকে বলবো বলেই ডেকে আনলাম। তার পর কালোমোটা একলোক তার নাম বলল, ওমর আলী। সে বলল, আপনার ছেলের এই এলাকায় একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক। প্রায় সময় দেখা সাক্ষাৎ করে এর আগেও নিষেধ করেছি। শুনেনাই। আজ আবার এসেছে। তাই ধরে আপনাকে ডাকলাম। আমি বললাম, আপনি বিচার করার কে বলল যেই মেয়ের সাথে সম্পর্ক সেই মেয়ে আমার বাসায় ভাড়া থাকে আরেক লোক দিদার আলী সে বলল আপনি এলাকায় থাকেন কেন ছেলেকে যদি সুস্থ দেখতে চান ভালো রাখতে চান তাহলে এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন অর্থাৎ হুমকি। রহমত চুপ করে বসে থাকলো ওমর আলী আমার লিখিত নিলো যে আমি আমার ছেলেকে বুঝিয়া পাইলাম এই লিখিত দিয়ে যান আমি না বুঝে তাই করলাম আরো বলল আর কোনো দিন আপনার ছেলে এই এলাকায় আসবেনা সেই ব্যবস্থা আপনাকে করতে হবে বলেন। এবং যেই মেয়ের সাথে আমার সোহানের সম্পর্ক ছিল তার নাম দিশা ওরা একই স্কুলে একই ক্লাসে পরতো। আমি মেয়েকে ডেকে জিঙ্গেস করলাম যা শোনলাম তা কি সত্যি তুমি বলোতো মেয়ে সবার সামনে বলল না এসব কথা মিথ্যা। আমি বললাম তাহলে আপনি মিথ্যা বলছেন কেন আর কেন এ মিথ্যা বিচারের নামে আমার অসম্মান এবং আমি আমার সোহান কে জিজ্ঞেস করলাম কি হইছে তুমি কিছু বলোতো সোহান মাথানীচু করে বসে থাকলো মাথা উঠাচ্ছেনা বিধায় আমি কিছুই বুঝতে পারি নাই । আমি সোহানকে নিয়ে চলে এলাম ওকে বাসায় রেখে বললাম তুমি বাসায় থাকো কাল সকালেতো ঈদ আমার একটু বাজারে যাওয়া দরকার তাড়াতাড়ি আসবো তুমি বাসায় থাকো এই বলে আমি সাড়ে সাতটায় বাজারে গেলাম ঠিক সাড়ে আটটায় ফিরেএলাম এসে দরজায় শব্দ করছি সোহান সোহান বলে দরজা আর খোলেনা কিন্তু আমি বার বার সোহানের রুমে ওর চেয়ারের শব্দ পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষন পর বাসার পাসের মহিলা আর তার মেয়ে এলো তারাও ডাকলো এবং মেয়েটাও বলল আন্টি চেয়ারের শব্দ হচ্ছে। চিন্তা করবেন না সোহান মনেহয় রাগ করে বসে আছে তখন আমার কাছে অস্থির লাগছিলো। আমাদের বাড়িওয়ালা নাই কেয়ার টেকার আছে তাকে বললাম যতো তাড়া তাড়ি পারেন দরজাটা ভেঙ্গে দেন কি হলো আমার তো খুব খারাপ লাগছে দেরী করবেন না তাড়াতাড়ি দরজা ভাঙ্গেন উনি বলল মনে হয় ঘুমাইছে এই কথা বলে এদিক ওদিক ঘুরা ফেরা করছে প্রায় ঘন্টা হয়ে এলো এক পর্যায় দেখলাম বাড়ী উপচ্চে পরছে মানুষের ভীড় আমি চিৎকার করে কাদতে থাকলাম আর বললাম কি হইছে আপনারা কি বলাবলি করছেন দরজা কেন ভাঙ্গছেননা তখন বলল পুলিশ লাগবে পুলিশ খবর দেওয়া হইছে অপেক্ষা করেন আমি বললাম কেন কি হইছে আপনারা আগে দরজা ভাঙ্গেন এই বলে চিৎকার করে যখন কাদতে থাকলাম তখন কিছু লোক আমাকে জোড় করে ধরে টেনে হিচড়ে একটা ঘরে নিয়ে দরজা আটকিয়ে রাখলো আমি বসে বসে কাদছি আর আমার আত্মীয় স্বজনকে ফোনে এসব বলছি ঘন্টা খানেক পর আমাকে বের করা হলো আমি এসে দেখলাম পুলিশ এবং লোকজনের ভীড় আমি রুমে দিকে তাকাতেই দেখি আমার সোহানের পা মাটিতেই ঝুলে আছে আমি দৌড়ে যেয়ে চিৎকার করে তাকে জড়িয়ে ধরলাম আর বললাম বাবারে আমি একি দৃশ্য দেখছিড়ে কেন এমন হলো কি হলোরে তুই কথাবল বাবা একপর্যায় থানার ওসি এলো আমার সোহানের দেহটা বিছানায় রাখলো আমি চেয়ে দেখলাম তার কপালটা ঘাটাচ্ছে বুকে দুইটা ছিদ্র আমি আমার বড় ভাইয়ের হাত ধরে কাদলাম আর বললাম আপনারা ডাক্তার আনেন ওকে হাসপাতালে নেন ও বেচেঁ যাবে ও মরেনাই ও মরতে পারেনা আমার ভাই বললো লাভ হবেনা ও মরে গেছে। এক পর্যায়ে পুুলিশ সোহানের দেহটা নিয়ে চলে গেল আমি সারা রাত বসে কাদছিলাম সব লোক আত্মীয় সবাই এক পর্যায় চলে গেল। পরদিন ঈদের দিন ভোর বেলায় আমি খিলগাওঁ থানায় চলে গেলাম সেখানে কাজ সেরে দুপুরে গেলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল সেখানে সব কাজ শেষ করে সন্ধার সময় সোহানের লাশটা নিয়ে এলাম উত্তরা সোহানের জানাযা দাফন কাফন শেষ হলো রাত সারে দশটায় কবরের পাশে দারিয়ে চিৎকার করে শুধু কাঁদলাম। তারপর দুদিন ওর কবরের কাছে যেতে পারি নাই । তার পরের দিন গেলাম সোহান সোহান করে চিৎকার করলাম ডাকলাম ও উঠে এলোনা আম্মু বলে আর ডাকলোনা কবরের গেইটে মাথা খুটে কতক্ষন কেঁদে চলে এলাম এলাম তারপর গতকাল দুপুরে সোহানের কবর যেয়ারত করে আমি আমার আম্মাকে নিয়া উত্তরা থেকে আমার বাসা খিলগাও চলে এলাম যেখানে ঘটনা। আমি আসতেই জনতার ঢল নামলো আমার বাসায় এসে সবাই বলছে। মামলা করবেন না এভাবে ছেড়ে দিবেন ওদের শাস্তি দিবেন না আমি জানতে চাইলাম কেনো কি হইছে তখন লোক জন মুখ খুলতে শুরু করলো বলল সেদিন রহমত আলী কফিল ওকে খুব পিটাইছে এবং ওমর আলী ও ওকে মারছে এবং এরা সবাই ওকে খুব নোংরা আজে বাজে কথা বলে অপমান করছে লজ্জা দিছে বিচারের নামে অবিচার করছে এবং আপনাকে ডেকে নিয়ে ওকে অসম্মান করছে তাই সোহান সহ্য করতে না পেরে পৃথিবী ছেড়েছে। শুনার পর মনে হলো ওর মৃত্যুর চেয়ে বেশী কষ্ট পাচ্ছি সহ্য করতে পারছিনা মাথা ঘুরছে পা টলছে তারপর ও বাইরে গেলাম এলাকার বড় ভাই জামান ক্লাবে বিচার শালিশ করে ওকে সব জানালাম উনি একজন কে জিজ্ঞাস করলো বললো হ্যা সব সত্য আমি ও শুনেছি এবং একজন সাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করেও আমি জামান ভাইকে শুনালাম উনি বলল পোষ্ট মর্ডাম রিপোর্ট আসুক সত্য হলে বিচার পাবেন। এবং উনি রহমত আলীকে ডেকে জিজ্ঞাস করলো সে অস্বীকার করলো। তার পর আমার এলাকার মেম্বার সোহাগ ভাইয়ের কাছে গেলাম সব বললাম উনি বলল কাল বিকেল চারটা থেকে পাচটার মধ্যে আসবো আপনাকে সহযোগিতা করবো। আজ বিকেল পাচটা পযর্ন্ত আমি অপেক্ষা করে উনাকে ফোন দিলাম উনি বলল উনি আসবে কিন্তু আসে নাই। খিলগাও থানার উসিকে ফোন দিলাম জানালাম উনি ছুটিতে আছে শনিবারের আগে পাওয়া যাবেনা থানার এস আইকে ফোন দিলাম বললাম কাল বাদ জুমা সোহানের দোয়া মিলাদ আপনি আসবেন অবশ্যই এবং আপনার সাথে আমার জরুরী কথা আছে আমাকে আপনার সহযোগিতা করতে হবে সব বললাম উনি বলল কাল সন্ধায় ফোন দিয়েন বলে দিবো কখন সময় দিতে পারবো।
আমি কাল সন্ধা থেকে রাত সাড়ে দশটা পযর্ন্ত বিভিন্ন লোকের কাছে গেলাম যারা বিচারের নামে অবিচার করেছে তাদের বাড়িতেও গেলাম এবং এলাকার বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বললাম। যতটুকু জানলাম ঘটনা সত্য ওরা সোহানকে খুব মারধর করেছে এবং লজ্জা দিয়েছে অপদস্ত করেছে এবং ওরা মানুষ ভালোনা ওদের এলাকায় দূর্নাম ও আছে ওরা ক্ষমতার বাহাদূরী দেখিয়ে এভাবে মানুষের উপর জুলুম করেছে তাই ভয়ে অনেকে কিছু বলেনা অনেকে অত্যাচার গুলো মেনে নেয়। অনেকে বলে ওরা আওয়ামী লীগের লোক ওদের বিচারকে করবে কে আপনি বিচার পাবেন না ওরা খুব খারাপ ওরা আপনারও ক্ষতি করবে ওরা এভাবেই অন্যায় করে আর অস্বীকার করে ওদের কেউ কিছু বলেনা।
পৃথিবী সৃষ্টি হলো প্রেমের কারনে প্রেম স্বর্গ থেকে আসে স্বর্গে চলে যায়। পৃথিবীতে প্রেমের জন্য কতজন অমর হয়ে আছে তার হিসাব নেই প্রেম অপরাধ নয় সবার ভালোবাসা নিয়ে নিজের মতো ভালো থাকার অধিকার আছে এটা দোষ নয় সোহান দিশা একজন আর একজনকে ভালোবেসে ছিলো ওরা ছোট মানুষ এখনও শিশু পাপের হিসেব নিকেস ওরা জানেনা বুঝেনা সোহান মাঝে মধ্যে ঐ এলাকায় যেতো শুধু দিশার সাথে একটু দেখা করার জন্য কথা বলার জন্য। যতোটুকু আমি এখন জানতে পারলাম এর আগেও নাকি সোহানকে এরাই দুবার পিঠাইছে এবং ওয়ারনিং দিয়েছে তুই আর এই এলাকায় আসবিনা যার কিছুই আমি জানতে পারিনাই এখন অনেক কিছুই জানতে পারছি সব শেষ হবার পর।
কথা হলো এর আগে যখন ওরা দুবার পিঠালো আমাকেতো বলতে পারতো আমাকে জানাতে পারতো আমার সন্তানের গায়ে আঘাত করার কি অধিকার আছে ওদের কেন ওরা জানালোনা কেন দুটি শিশুবাচ্চার জন্য বিচার নামের অবিচার হলো কেন আমার সোহানকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করলো অনেক কেনর উত্তর আমি পাচ্ছিনা পৃথিবীতে সমাজের আনাচে কানাছে প্রেম করছেনা কে দেখা করছেনা কথা বলছেনা কে এর জন্য আবার কিসের বিচার প্রাতি মুর্হুতে এই পৃথিবীতে কতো অন্যায় অবিচার হচ্ছে তারকি বিচার হচ্ছে কেবা বিচার করছে অন্যায় করেও অন্যায় কারীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে আর নির্দোষ মানুষ গুলো বিনাদোষে শাস্তি পাচ্ছে এটাইতো হচ্ছে কিন্তু কেন? কেন এই অনিয়ম কেন এই অত্যাচার কেন এই জুলুম? আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। আমি হয়তো আমার সন্তানকে ফিরে পাবোনা কিন্তু এই অন্যায়ের বিচারের জন্য বেঁচে আছি এর বিচার না হলে আমি বাচবো কি শান্তনা নিয়ে আমি চাই এর বিচার হউক –আমি চাই আতœহত্যার প্ররোচনা কারীরা যথাযথ শাশিÍ পাক। আমি চাই এই অন্যয় যেনো আর কারো সাথে না হয়। এর সঠিক বিচার না হলে আমিও বাচঁতে পারবোনা আমি রহমত আলী কফিল উমর আলী দিদারের মতো লোকের শাস্তি চাই বিচার চাই রহমত আলী কফিল উমর আলী কোন দোষে আমার সন্তানকে পিঠালো এতো অস¤œান করলো আতœহত্যা করতে বাধ্য করলো জানতে চাই আমি সকল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানকে আমার পাশে চাই আমি সকল বিচারালয় আইনের রক্ষকদের সহযোগিতা চাই আমি সকলকে আমার পাশে সবাই সবার সাধ্য মতে আমার পাশে দাড়ান আমাকে সহযোগিতা করেন। সকল সাংবাদিক ভাই বোনের সহযোগিতা করুন।
আমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন না। তাহলে আমিও বাঁচতে পারবোনা বিচারের নামে অবিচারীদের শাস্তি চাই সবাই আমার সাথে একমত হউন অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন আওয়াজ তুলুন নিরব থাকবেন না তাহলে খালি আপনার সাথে এমন আবিচার হবে আপনার সন্তানকে ও হারাতে হবে। এমন যেনো আর কারো সাথে না হয় সবাই সেই চেষ্টা করুন। আমার সোহান আমার বন্ধু সাথি জীবনে যোদ্ধা বেঁচে থাকার একমাত্র আবলম্বন কেড়ে নিয়ে আমাকে একা করলো নি:স্ব করলো দু:খের সাগরে ভাসিয়ে দিলো তাদের বিচার আমি চাই আল্লাহ তুমি সহায় হও সহ্য করতে আর পারছিনা। সব মৃত্যু মেনে নেওয়া যায়না মেনে নেওয়ার মতো নয় সোহান শক্ত মনের মানুষ ছিল ওতো আতœহত্যা করতে চায়নি ওকেতো আতœহত্যার প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে বাধ্য করা হয়েছে ও শিশু বাচ্চা এতো কষ্ট লজ্জা মায়ের অস¤œান ওর অস¤œান কিছুই ও মেনে নেতে পরেনি এটা ছেড়ে দেওয়া যায় না মেনে নেওয়া যায়না। এখন রাত দেরঠা আমি লিখছি আজ এক সপ্তাহ ঘুমাই না আর কোনদিন ঘুমাতে পারবো কিনা জানিনা। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় এই ভেবে যে আমাকে কেউ আর আম্মু বলে ডাকে না আমি আর আম্মু ডাকা শুনিনা। কারা কেড়ে নিলো আমার সব কেন নিল আমি এর জবাব চাই বিচার চাই। আমি সোহানের জন্য বাজার করে নিয়ে আসলাম সোহান আর দেখলইনা। কোরবানীর আগের দিন কেন আমার সোহানকে কোরবান করা হলো কে দিবে এর জবাব। কেন সোহানের বেচেঁ থাকার আশা কেড়ে নিলো কেনো ওকে এতো কষ্ট দিলে?
আমি দিশার মা আর দিশার সাথে বারবার কথা বললাম। ওরা দুজন আমাকে বলল, আমাদের সামনে রহমত আলী আর খলিল দুজনেই ওকে পিটাইছে। সোহান চিৎকার করে কাঁদছে। বাচঁতে চেষ্টা করেছে। আমাদের ঘরে এসে পালাইছে। সেখান থেকে ওকে টেনে হিচড়ে বের করে নিয়ে পিটাইছে। ও রহমত আলীর পা ধরে কাঁদছে। তাতেও কাজ হয় নাই। চিৎকার করে বলছে, আমাকে বাঁচান। বাঁচান সবাই। হা করে দাঁড়িয়ে দেখছে সবাই। কিছুই বলেনাই। কেন এই নির্মম নিষ্ঠুর বর্বরতা, হিংস্রতা কেন? ওকে বাঁচতে দিলো না। আমি যতই লিখি, লেখা শেষ হবে না। আমার লেখার ভাষা আর জানা নাই। এই অবস্থায় আমার সমস্ত উদ্দেশ্য একটাই- সবাইকে এই জঘন্য ঘটনা জানানো এবং এর বিচার পাওয়া। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে- এমন যেনো আর না হয়। কোরবানীর ঈদের আগের রাতে আর কোন সোহানকে যেনো কোরবান হতে না হয়। বিনা দোষে কোনো মায়ের পৃথিবী এভাবে যেন রহমত আলী কফিল অন্ধকার করে দিতে না পারে। রহমত আলী, রহমত আলীর ভাড়াঠিয়া মুরগী ব্যবসায়ী, কফিল উমর আলী, দিদার এরা এখন আনেক সত্যই অস্বীকার করছে এবং অনেক মিথ্যাই বানিয়ে বলছে। এ যেনো আরো বেশি যন্ত্রনার। সত্য লুকানো এবং মিথ্যা বলে কষ্ট দেবার জন্য এদের শক্ত শাস্তি হওয়া উচিৎ। হাত জোড় করে অনুরোধ করছি কেউ মেনে নেবেন না অপরোধী কারো স্বজন হতে পারে না। শাস্তি হওয়া জরুরী। এই বিচার নিশ্চিত করে সবাই আমাকে বাচঁতে দিন।।
 

বিশেষ প্রতিবেদন এর আরো খবর