সহায়ক সরকারের বিষয়ে - বিএনএ’র চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

“তৃণমূল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই রাজনৈতিক মোর্চা মনে করে এ বিতর্ক নিরর্থক। কারণ বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধানেই দেয়া আছে সহায়ক সরকারের রূপরেখা। সংবিধানের ১১৯ ধারায় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের উপর। সংবিধানের ১১৮ ধারার ৪ উপধারায় সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ¯^াধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধানের অধীন হইবেন। অর্থাৎ নির্বাচন দায়িত্ব পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে কাজ করবেন না।” আজ ১ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১;৩০ টায় জাতীয় ্স ক্লাব-এ বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)এর সংবাদ সম্মেলনে বিএনএ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এমন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “প্রশ্ন হচ্ছে নির্বচন কমিশন ¯^াধীন কিভাবে ? এইভাবে যে, ইচ্ছা করলেই রাষ্ট্রপতি কিম্বা প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কিম্বা নির্বাচন কমিশনের অন্য কোন সদস্যকে তাদের সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছরের আগে চাকুরী থেকে অপসারণ করতে পারবেন নাÑ শুধুমাত্র অসদাচারণ প্রমাণে সুপ্রীম জুডিশিয়াল কাউন্সিল অর্থাৎ প্রধান বিচারপতি এবং আপীল বিভাগের সর্ব জৈষ্ঠ বিচারপতি সমš^য়ে গঠিত কাউন্সিলের সুপারিশেই একজন নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে। এর অর্থ হচ্ছে, সম্পূর্ণভাবে ভয়ভীতির ঊর্ধে থেকে নির্বাচন কমিশন তাদের নির্বাচন সম্পর্কিত কর্তব্য ও দায়িত্ব ¯^াধীনভাবে পালন করতে পারবেন। তবে, নির্বাচন কমিশনের অধীন নির্বাচনকালীন দায়-দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন কমিশনের তো অবশ্যই সরকারের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সংবিধানের ১২০ ধারায় এ সম্পর্কে সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে: “... নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনের জন্য যে রূপ কর্মচারীর প্রয়োজন হইবে নির্বাচন কমিশন অনুরোধ করিলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সেইরূপ কর্মচারী প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।” সংবিধানের১২৬ ধারায়  বলা হয়েছে “নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের  কর্তব্য হইবে।” সংবিধানের উপরোক্ত ধারাসমূহের আলোকে নিঃসন্দেহে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সংসদ নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্ব পালনে ¯^াধীন নির্বাচন কমিশনই সর্বেসর্বা। এবং নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে, এ দায়িত্ব পালনে সরকারের কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তা প্রয়োজন, কমিশনের বিবেচনায় যে সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা এরূপ সহায়তা প্রদানে সক্ষম, তাদের নাম ও তালিকা রাষ্ট্রপতি বরাবরে প্রেরণ করলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখিত কর্মচারী-কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে বাধ্য থাকবেন। বলা বাহুল্য, সরকার যার অধীনেই থাকুক না কেন, এ সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তা তাদের এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে থাকবেন ¯^াধীন নির্বাচন কমিশনের অধীন, প্রধানমন্ত্রীর অধীন নয়। সংবিধানের ১২০ ধারা এবং ১২৬ ধারার এটাই হচ্ছে ব্যাখ্যা। প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের আমাদের এই ছোট্ট দেশটি একটি একক ভ‚খণ্ড। কোন বিদেশী মাটি নেই এই ভ‚খণ্ডে। এই ভ‚খণ্ডের সাড়ে ষোল কোটি মানুষ আমরা একই ভাষায় কথা বলি, ধর্মও বলতে গেলে একই। দেশের ¯^ার্থে যদি আমরা একই সুরে কথা বলি, আমাদের দেশ তো বিশ্বের মানচিত্রে একটি মর্যাদা সম্পন্ন, আত্মনির্ভরশীল, সম্মৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে ! কি নেই আমাদের ? সব আছে ! অথচ আমরা মুখ থুবড়ে পড়ে আছি। জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের জনগণই তো পারবে এই দেশকে সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। আমরা কেন পারব না এমন একটি নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিতে ?  বিএনএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্কাস আলী খানের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জোটের মহাসচিব বাংলাদেশ জাগো বাঙালি দলের চেয়ারম্যান মেজর ডা.শেখ হাবিবুর রহমান(অব.), বাংলাদেশ আওয়ামী পার্টি সভাপতি আমান উল্লাহ শিকদার, সম্মিলিত নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান ম্যানুয়েল সরকার, দেশরক্ষা আন্দেলনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ওয়রেসুল হাসান ও কো-চেয়ানম্যান অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. আফরোজা বেগম হ্যাপি, জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগো দল) মহাসচিব আব্দুল্লাহ জুবায়ের তৃণমূল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সাজাহান সাজু, ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সহিদুল হাসান, আনোয়ার হোসেন, হুমায়ন কবির ইদ্রিস সহ সম্পাদক আকতারুজ্জামান, দেশরক্ষা আন্দেলনের সাধারণ সম্পাদক আজহার মিয়া প্রমূখ। ৤

সর্বশেষ সংবাদ

নির্বাচিত সংবাদ এর আরো খবর