ফোর-জি চালু করল তিনটি প্রতিষ্ঠান
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স পাওয়ার পর চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক ফোর-জি অথবা এলটিই সংযোগ চালু করেছে মোবাইল সংযোগ সেবা দেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান। ফোর-জি সংযোগ চালু করা এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বাংলালিংক, গ্রামীণ ফোন এবং রবি। রাজধানী ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট এলাকাসহ রাজধানীর বাইরেও চালু হয় বহুল প্রতীক্ষিত এ সেবা।

সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা ক্লাবে চারটি মোবাইল সংযোগ অপারেটরের কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন বিটিআরসি। প্রতিষ্ঠানগুলো হল বাংলালিংক, গ্রামীণ ফোন, রবি এবং টেলিটক। এদের মধ্যে টেলিটক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি বাদে আর সবাই ফোর-জি সেবা চালু করে।

তবে এখন সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাওয়া যাবে এ সেবা।

বাংলালিংক

রাজধানী ঢাকাসহ বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনায় সোমবার রাতেই ফোর-জি সংযোগ চালু করে বাংলালিংক। লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর মধ্যে প্রথমেই লাইসেন্স দেওয়া হয় এ প্রতিষ্ঠানটিকে।

অনুষ্ঠানস্থল থেকেই প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র কমিউনিকেশন ম্যানেজার অঙ্কিত সুরেকা  ফোর-জি চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০টিরও বেশি বিটিএস টাওয়ারের মাধ্যমে ৪টি বিভাগীয় শহরে এ সেবা চালু করা হচ্ছে। দ্রুতই তা পুরো দেশে বিস্তৃত করা হবে”।

লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এরিক অস বলেন, “সোমবার আমাদের জন্য বিশেষ একটি  দিন। ফোরজি সেবা চালুর মাধ্যমে আমরা ডিজিটাল সংযোগের এক নতুন যুগে প্রবেশ করলাম। বাংলাদেশের মানুষের জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা আনতে পেরে বাংলালিংক গর্বিত। ফোরজি চালুর মাধ্যমে আমরা এমন এক নতুন ডিজিটাল বিশ্বে প্রবেশ করতে যাচ্ছি যেখানে জীবনযাত্রা এক নতুন মাত্রা পাবে”।

গ্রামীণ ফোন

রাজধানী ঢাকার গুলশান, বারিধারা, বসুন্ধরা এবং উত্তরায় ফোর-জি সেবা চালু করে গ্রামীণ ফোন। এছাড়াও চট্টগ্রামের দামপাড়া, খুলশী এবং নাসিরাবাদেও চালু হয়েছে এই সেবা। প্রতিষ্ঠানটির থেকে জানানো হয় যে, আসবে। বেশিরভাগ বিভাগীয় শহরে অচিরেই ৪জি চালু হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই সব জেলা শহরে ৪জি পৌছে যাবে।

লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ফোলি বলেন, “সোমবার বাংলাদেশের সবার জন্য একটি গর্বের দিন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমরা গ্রাহকদের সেরা ৪জি সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আমাদের ৪জি রোলআউট পরিকল্পনা তা নিশ্চিত করবে”।

রবি

বাংলালিংক এবং গ্রামীণ ফোনের পাশাপাশি রবি’ও ফোর-জি সেবা চালু করে। ১৭৯টি বিটিএস টাওয়ারের আওতাধীন এলাকায় চালু হয়েছে এ সেবা।

লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, “সোবমার আমাদের জন্য বরই আনন্দের দিন। ফোর-জি’র পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের ঘোষণা আসে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ থেকে। তবে ফোর-জি সেবা শুধু মুখে মুখে বললেই হবে না। এরজন্য কিছু বিষয়ে আমাদের নজর দিতে হবে”।

এসময় মোবাইল ডিভাইসের ওপর শুল্ক কমানো এবং ফোর-জি নীতিমালায় থাকা কিছু কঠিন শর্তের সংশোধন করে তা শিথীল করার প্রতি জোর দেন রবি’র এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

টেলিটক

অন্য অপারেটরগুলোর মত সোমবার থেকে ফোর-জি সেবা চালু না করলেও আগামী মে মাস থেকে ফোর-জি সেবা চালুর কথা জানায় রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল সংযোগ অপারেটর প্রতিষ্ঠান টেলিটক। লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী গোলাম কুদ্দুস বলেন, “ইন্টারনেট এবং টেলি নেটওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে ফোর-জি। টেলিটক ‘বর্ণমালা’ প্যাকেজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এবং ‘অপরাজিতা’ প্যাকেজের মাধ্যমে নারী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের যেসব সুবিধা দেওয়া হয় তার ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে আমরা আমাদের ৭০ শতাংশ আউটপুট দিতে পারব”।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এক ই-মেইল বার্তায় তার বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ফোর-জি চালুতে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “দেশবাসীর উন্নয়নে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। তারই অংশ হিসেবে ফোর-জি’র মাধ্যমে আমরা মোবাইল নেটওয়ার্কের সবথেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রবেশ করলাম। ফোর-জি চালু হয়েছে এবং চলমান আছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে এর সর্বোচ্চ বিস্তার দেখব বলে আমি আশা করছি”।

সর্বশেষ সংবাদ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরো খবর