এবার হজ পালন করবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার মুসুল্লি

আসন্ন হজে ১০ হাজারের বেশি মুসুল্লিদের সমবেত হতে দেবে না সৌদি আরব। গত সোমবার সীমিত পরিসরে হজ আয়োজনের ঘোষণা দেয়ার পরদিন গতকাল ২৩ জুন, মঙ্গলবার যৌথ ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে এমন ঘোষণা দেন দেশটির ওমরাহ ও হজ বিষয়ক মন্ত্রী ড. মুহাম্মদ সালেহ বেন্তেন এবং  স্বাস্থ্যমন্ত্রী আল-রাবিয়াহ।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়ায় বলেন, ‘সৌদি আরব মারাত্মক আকারে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় আসন্ন হজযাত্রায় বেশ কয়েকটি কঠোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রোটোকল প্রয়োগ করা হবে।’
 
সৌদিদে অবস্থানরত ব্যক্তি ছাড়া বহির্বিশ্বের কোন দেশ থেকে হজযাত্রীদের এ বছর হজ করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
 
আল-রাবিয়াহ আরো বলেন, ‘এ বছর হজযাত্রীদের বয়স ৬৫ বছরের নিচে হতে হবে এবং দীর্ঘ কোন রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তিকে অনুমতি দেওয়া হবে না।’
 
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি হজ। প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও সুস্থ মুসলমানদের জীবনে একবার হজব্রত পালন করা ফরজ। প্রতি বছর ২০-২৫ রাখ মুসলমান পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন।
 
করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র দেশটিতে বসবাসকারীরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অংশ নিতে পারবেন বলে ২২ জুন, সোমবার জানিয়েছে সৌদি সরকার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মুসলমানরা এবার হজে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানায় তারা।
 
এইবারের হজে যারা অংশগ্রহণ করবেন তাদের স্বাস্থ্য ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সকল ধরনের নিরাপত্তা দিতে হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করতে পরিকল্পনা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
 
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আল-রাবিয়াহ আরো জানান, তারা নিরাপদ হজ মৌসুম নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক এবং সতর্কতামূলক সবধরনের ব্যবস্থা এবং প্রটোকল বিকাশের জন্য ওমরাহ ও হজ মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করছেন।
 
প্রটোকলে রয়েছে-
 
১. দশ হাজারের বেশি লোককে হজযাত্রা করতে দেওয়া হবে না।
 
২. সকল তীর্থযাত্রীদের পবিত্র স্থানে পৌঁছানোর আগেই তাদের পরীক্ষা করা হবে।
 
৩. শুধুমাত্র ৬৫ বছরের কম বয়সীদের এই বছর হজ পালনের অনুমতি দেওয়া হবে।
 
৪. সকল হজযাত্রীকে হজ্জের অনুষ্ঠান শেষ করার পরে স্ব-বিচ্ছিন্নতার জন্য বলা হবে।
 
৫. হজযাত্রা শুরুর আগে সকল কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
 
৬. সমস্ত তীর্থযাত্রীর স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
 
৭. হজযাত্রা চলাকালীন যে কোনও জরুরি অবস্থার জন্য একটি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে।
 
৮. সামাজিক দূরত্বের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।