কুমারী পূজায় মহাষ্টমী উদযাপন

পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন বুধবার মহাষ্টমীতে মন্দিরে মন্দিরে উদযাপন করা হয়েছে কুমারী ও সন্ধি পূজা।  সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা শুরু হয়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ শেষে দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট থেকে ১টা ১৯ মিনিটের মধ্যে সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের হেরফের ঘটেছে কিছুটা।  তবে মহাষ্টমীর প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। সকাল ১০টায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও এই পূজার জন্য অল্পবয়সী একটি মেয়েকে কুমারী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে, যাকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যানুসারে তার একটি নামকরণও করা হয়।  শাস্ত্র মতে, এক বছর বয়সী মেয়েদের সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কলিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালনী, আটে কুব্জিকা, নয়ে কালসন্দর্ভা, দশে অপরাজিতা, এগারোয় রুদ্রানী, বারোয় ভৈরবী, তেরোয় মহালক্ষ্মী, চৌদ্দয় পীঠনায়িকা, পনেরোতে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোলো বছরে অন্নদা বলা হয়ে থাকে।  আজ মন্দিরে মন্দিরে পূজারি ও দর্শনার্থীর মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। রাজধানী ছাড়াও রামকৃষ্ণ মিশনের নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুরসহ কয়েকটি মঠ এবং কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপেও আজ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন গতকাল মঙ্গলবার মহাসপ্তমীতে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের মানুষও পূজা দেখতে আসায় এরই মধ্যে এই উৎসব পেয়েছে সার্বজনীন রূপ। সারাদেশের মতো রাজধানী ঢাকার পূজামণ্ডপগুলোও এদিন ঢাক-ঘণ্টার বাদ্যি-বাজনা আর ভক্তদের পূজা-অর্চনায় মুখর হয়ে উঠেছিল। সরেজমিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে সর্বত্র উৎসবের ছোঁয়া দেখা গেছে। মণ্ডপে মণ্ডপে মহাসপ্তমীর পূজা দেখতে আসা নানা বয়সী পূজারি ও ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যার পর এ ভিড় ছিল উপচেপড়া। আজ মহাষ্টমীর দিন দর্শনার্থী, পূজারি ও ভক্তদের এ ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।