শুভ মহালয়া সোমবার

শুভ মহালয়া সোমবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুর প্রাক্কালে সোমবার চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে।

মহালয়া দুর্গোৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদিন থেকে দেবীপক্ষের শুরু। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনাও শুরু এদিন থেকেই।

হিন্দু ধর্মমতে, মহালয়ায় দেব-দেবীকুল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। এদিন অতি প্রত্যুষে মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ভক্তরা গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন।

মহালয়ার সাতদিন পর আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে পাঁচদিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটবে। তবে মূলত সোমবার থেকেই কানে অনুরণিত হবে দেবী দুর্গার আগমনধ্বনি। সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন)। যার ফল হচ্ছে ফসল ও শস্যহানি। দেবী স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন (গমন) দোলায় (পালকি) চড়ে। যার ফল হচ্ছে মড়ক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারীর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।

এ বছরের দুর্গাপূজার নির্ঘন্ট অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীতে দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। অবশ্য আগের দিন ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনধ্বনি অনুরণিত হতে শুরু করবে। ১৬ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৭ অক্টোবর মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং ১৮ অক্টোবর মহানবমী শেষে ১৯ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিনের দুর্গোৎসব।
মহালয়া উপলক্ষে সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা আয়োজিত হবে। বেতার-টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠান এবং পরে মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা আয়োজিত হবে। এর আগে গত বছরের দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে মন্দিরের নিজস্ব জলাশয়ে। মহালয়া অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশিত হবে। ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজামণ্ডপের মহালয়ার অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করবেন।

এছাড়া রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির এবং সিদ্ধেশ্বরী পূজামণ্ডপসহ রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে মহালয়া উপলক্ষে চন্ডীপাঠ, চণ্ডীপূজা, আবাহনী সঙ্গীত, ধর্মীয় আলোচনা সভা, ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।