ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ
ভোট পেছানোর প্রস্তাব নাকচ আওয়ামী লীগের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তারা মন খুলে কথা বলেছেন, আমরাও কথা বলেছি। তারা সাত দফা দাবি আবারও তুলে ধরেছেন। তবে নতুন করে ঐক্যফ্রন্ট একটি দাবি তুলেছে। সংসদ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্য নির্বাচন ও ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব করেছে তারা। প্রধানমন্ত্রী তাদের এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। তবে তাদের সাত দফা দাবির বেশ কিছু দাবি মানা হয়েছে। বুধবার গণভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার সকাল ১১টায় গণভবনে এই সংলাপ শুরু হয়ে চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে এবার সংলাপে অংশ নেন ১১ জন। সংলাপের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের কোনো নেতা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। ড. কামাল হোসেনের বাসায় বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় সংলাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, 'ঐক্যফ্রন্টের নেতারা নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেছেন। আমরা বলেছি, সত্যিকারের রাজবন্দি হলে মুক্তি দেওয়া হবে। তারা লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরিতে ইসি কাজ করবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের অনুরোধ করেছেন, আপনারা নির্বাচনে আসুন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে। আমরা দেখিয়ে দেব এই সরকারের অধীনেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। এরপর যদি আপনারা জেতেন আপনারা ক্ষমতায় আসবেন, আর আমরা জিতলে আমরা আসবো।' তিনি বলেন, 'সংসদ যেদিন বসেছে সেদিন থেকে হিসাব করে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট সংলাপে প্রস্তাব দিয়েছে- সংসদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার। কিন্তু এটা সংবিধানের বাইরে। তাই আমরা এতে সম্মত হইনি। আর একজন প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ জন উপদেষ্টা রেখে নির্বাচন করার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।' তিনি বলেন, 'এটা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার একটা বাহানা। এই পিছিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফাঁক ফোকর হয়ত খুলে দেওয়া হচ্ছে। যেখান দিয়ে তৃতীয় কোনো অপশক্তি এসে ওয়ান ইলেভেনের মত সেই অনভিপ্রেত অস্বাভাবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। আমরা সবাই সেটা মনে করছি।' তবে তাদের সাত দফার বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঐক্যফ্রন্ট সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা বলেছি, এটা গণতান্ত্রিকা কোন দেশে নেই। সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে না, দলীয় পতাকা থাকবে। কোনও ধরনের সরকারি ফ্যাসিলিটি (সুবিধা) আমরা এনজয় করবো না। ডায়ালগ শেষ হলেও আলোচনা চলতে পারে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বৃহস্পতিবার সংলাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিস্তারিত তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি। বুধবারের সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে ছিলেন ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আনিসুল হক, দীপু মনি ও শ ম রেজাউল করিম। এছাড়া শরিকদের মধ্যে ছিলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের ১১ সদস্যের দলে ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. ‌মোশাররফ হো‌সেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ‌মোস্তফা মহ‌সিন মন্টু, দলের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত ‌চৌধু‌রী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, দলের উপদেষ্টা এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। এর আগে ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।

রাজনীতি এর আরো খবর