আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের অপেক্ষায়

এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী পুরনো ও বৃহৎ দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, শনিবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পায়রা ও বেলুন ওড়ায়ে দলের প্রধান কার্যালয়ের নতুন ভবনের ফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে নতুন কর্যালয়ে দলের নেতাদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভা করবেন।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী কাল শনিবার সকাল ৯ টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধানমণ্ডি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে উদ্ধোধন করা হবে।      

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ ও প্রাচীন দল বলেই নয়, টানা সবচেয়ে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার রেকর্ডও এখন আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, টানা দুই মেয়াদ ক্ষমতায় থেকে বিপুল উন্নয়ন সাধন করায় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেড়েছে। পাশাপাশি গত দুই তিন বছরে সংগঠনও অনেকটা শক্তিশালী হয়েছে। সারাদেশে বেড়েছে কর্মী-সমর্থক। এসব কথা মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয়টি নির্মিত হয়েছে বৃহৎ পরিসরে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নতুন কার্যালয়টি যেখানে নির্মিত হয়েছে সেই জমিটি ইতোমধ্যে ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেওয়া হয়েছে সরকারের কাছ থেকে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এজন্য বিদ্যুৎ সহ নানা বকেয়া বিল মিলিয়ে সরকারকে দিতে হয়েছে ১ কোটি টাকা। ৮ কাঠা জায়গায় নির্মিত ভবনটি মাটির নিচে (গ্রাউন্ড ফ্লোর) একতলাসহ দশতলা ভবনের কাজ শেষ হয়েছে ইতোমধ্যে। আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনটি পুরোটাই থাকবে ওয়াইফাই এর আওতায়।  

নান্দনিক নকশায় নির্মিত ভবনটিতে থাকছে কয়েকটি কনফারেন্স হল। রয়েছে বেশ কয়েকটি সেমিনার রুম। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য রাখা হয়েছে সুপরিসর কক্ষ। এছাড়া ডিজিটাল লাইব্রেরি, ভিআইপি লাউঞ্জ, সাংবাদিক লাউঞ্জ, ডরমেটরি ও ক্যান্টিন থাকছে। উদ্বোধনের পর প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয় সংযোজন হতে পারে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। ভবনটির ছয় বা সাত তলা পর্যন্ত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অফিস থাকছে।

নতুন কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও প্রথমত ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভবনের প্রস্তাব উঠে আসে। সরকারি বিধি অনুযায়ী নানা কার্যক্রমের পর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কাজে হাত দেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার। সেই হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার চার মাস আগেই শেষ হলো ভবনের নির্মাণ কাজ। ভবন নির্মাণের নতুন কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভবন নির্মাণ করতে কোনো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়নি। পূর্তমন্ত্রীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে ভবনটি নির্মিত হয়।

দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবন নির্মাণে কোন ধরনের দান-অনুদান গ্রহণ করেনি দল। তবে ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে গঠন করা তহবিলে দলের নেতা-কর্মী শুভাকাঙক্ষীদের অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। তবে কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। ছিল না নির্দিষ্ট কোন বাজেট। যখন যা প্রয়োজন হয়েছে তাই খরচ হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

দলটির নেতারা মনে করছেন নতুন দৃষ্টিনন্দন ও অত্যাধুনিক ভবনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে উৎসাহ পাবে দলটির নেতা কর্মীরা। ভবন নির্মাণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে দলের সকল নেতাকর্মীদের জন্য নতুন কার্যালয় একটি উপহার। নতুন করেই শুরু হবে পথচলা। আশা করছি নতুন ভবন আমাদের জন্য নতুন বিজয় বয়ে আনবে। দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে ভবনটির নির্মাণের মূল দায়িত্বে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

প্রসঙ্গত, পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অফিস স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে ৮ থেকে ৯ বার। প্রতিষ্ঠার পর পালাক্রমে সিনিয়র নেতাদের বাসায় বসেই দল পরিচালনার নীতি-কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো। ১৯৫৩ সাল থেকে ৯ কানকুন বাড়ি লেনে অস্থায়ী একটি অফিস ব্যবহার করা হতো। এরপর ১৯৫৬ সালে পুরান ঢাকার ৫৬ সিমসন রোডে দলের অফিস করা হয়।

১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার পর এর তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৯১, নবাবপুর রোডে দলের অফিস নেন। এর কিছু দিন পর অস্থায়ীভাবে সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলের গলিতে কিছু দিন বসেন নেতারা। পরে পুরানা পল্টনে দুটি স্থানে দীর্ঘদিন দলের অফিস ছিল।

সর্বশেষ ১৯৮১ সালের দিকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঠিকানা হয়। সেই থেকে এখনও এখানেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় রয়েছে।

২০১৬ সালে এটিকে যুগোপযোগি এবং আধুনিক করার লক্ষে পুরনো ভবন ভেঙ্গে ১০ তলা ভবন করার কাজে হাত দেন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই ওই ভবন ভাঙ্গা হয়। এরপর থেকে অবিরাম ভাঙ্গার কাজ চলে। টানা নির্মাণ কাজ করে ইতোমধ্যে পুরো কাজ শেষে করা হয়েছে। 

রাজনীতি এর আরো খবর