প্রধান বিচারপতির বিদেশযাত্রায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিদেশ যাওয়ার আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধান বিচারপতির আবেদন বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পর রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন বলে জানা গেছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে,  বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করবে আইন মন্ত্রণালয়। এরপরই বিদেশে যেতে পারবেন প্রধান বিচারপতি। সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির বিদেশ যেতে হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন পড়ে।   এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বিকেল পৌনে ৪টায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মাননীয় প্রধান বিচারপতির বিদেশে যাওয়ার আবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এটা আমার কাছে আসার পর তাতে আমি স্বাক্ষর করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ (বুধবার) তাতে স্বাক্ষর করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জে আছেন। তিনি ঢাকায় ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। ’ জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যার আগে রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরলে তাঁর দপ্তরে পাঠানো হয় প্রধান বিচারপতির আবেদন। রাতেই তাতে অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি।   অসুস্থ প্রধান বিচারপতি বিশ্রামের জন্য বিদেশে যেতে চাওয়ার কথা জানিয়ে ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আনিসুর রহমানের একটি আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনের মাধ্যমে ওই দিন বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে। আবেদনে ১৩ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সময়ে বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছার কথা বলা হয়েছে। বিদেশে গেলে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর এসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন আইনমন্ত্রী। তারপর সেটা পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া প্রজাতন্ত্রের বাকি সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। এ জন্য প্রধান বিচারপতির ছুটির বিষয়টি রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রধান বিচারপতির নথি পাঠানোর আগে তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। গতকাল এ নথি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাতে স্বাক্ষর করেন। এরপর তা আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর সেটা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়। এ নথি এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   এদিকে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছেন সরকার সমর্থক ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। বাসায় চিকিৎসক : গতকাল দুপুর ১২টা ৫৪ মিনিটে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. এ কে এম সালেক। তিনি দুপুর দেড়টায় বেরিয়ে যান। এ ছাড়া দুপুরে প্রধান বিচারপতির বাসায় যান তাঁর বন্ধু ধানমণ্ডির ব্যবসায়ী মঞ্জুর রহমান ও সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ রিডার মাহবুব হোসেন। ‘রাষ্ট্রপতি ঢাকায় ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন’ : গতকাল বিকেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বরে যখন বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন হয় তখন থেকে মাননীয় প্রধান বিচারপতির ছুটি তিনি নিজেই নেন। মাননীয় প্রধান বিচারপতি ছুটি নেওয়ার পর তো এখানে শূন্যতা থাকতে পারে না। তাই একজনকে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি হতে হয়। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। সে জন্য মাননীয় প্রধান বিচারপতি ছুটি নেওয়ার পর তা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি বলেন, আমরা যারা সরকারি চাকরিজীবী তাদের সবারই কিন্তু বাইরে যেতে হলে সরকারের আদেশ লাগে। এ কারণে প্রথমে উনার (প্রধান বিচারপতি) ব্যক্তিগত সহকারী চিঠি লিখেছেন। তারপর আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন এটার একটা কাভারিং লেটার লিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এটা আমার কাছে আসার পর তাতে আমি স্বাক্ষর করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ (বুধবার) তাতে স্বাক্ষর করেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জে আছেন। তিনি ঢাকায় ফিরে সিদ্ধান্ত নেবেন। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের মানববন্ধন : আদালত অঙ্গনকে রাজনৈতিকীকরণ এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এ সময় সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, পরিষদের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, নুরুল ইসলাম সুজন, মাহবুব আলী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ড. বশির আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অবস্থান কর্মসূচি : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে সমিতির ব্যানারে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল দুপুরে সমিতি ভবনে সমিতির সভাপতি কক্ষের সামনে এ কর্মসূচিতে অ্যাডভোকেট মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, নিতাই রায় চৌধুরী, সমিতির সাবেক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, সমিতির বর্তমান সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, তৈমূর আলম খন্দকার, সমিতির সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা প্রমুখ অংশ নেন। আইনজীবীদের পদযাত্রা : প্রধান বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টে ফিরিয়ে আনার দাবিতে ন্যাশনাল ল ইয়ার কাউন্সিলের ব্যানারে কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুনুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন আইনজীবী পদযাত্রা কর্মসূচি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন থেকে সুপ্রিম কোর্ট মাজার গেটে পৌঁছালে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।

রাজনীতি এর আরো খবর