রিসোর্টের ঘটনা নিয়ে লাইভে যা বললেন মামুনুল

 নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলেছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক। লাইভে তিনি রিসোর্টে তার সঙ্গে থাকা নারীর পরিচয় তুলে ধরে এ নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। শনিবার (৩ এপ্রিল) নিজের ফেসবুক পেজ থেকে রাত ১০টায় লাইভে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন মামুনুল হক।
 
 
এদিন বিকেলে রয়্যাল রিসোর্টের পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করা হয় মামুনুল হককে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামুনুল হক ওই নারীর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। তারা এ বিষয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দুই বছর আগে মেয়েটিকে বিয়ে করেছেন তিনি। সোনারগাঁও এলাকায় ঘুরতে এসে শনিবার জোহরের নামাজের পর ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
 
ফেসবুক লাইভেও একই রকম দাবি করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় এই নেতা। তিনি বলেন, ওই নারী তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাবেক স্ত্রী। আড়াই বছর আগে তাদের বিচ্ছেদের পর ওই নারীকে তিনি ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের উপস্থিতিতে বিয়ে করেন। এ বিষয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানান মামুনুল।
 
 
লাইভ চলাকালে মামুনুলের সঙ্গে ছিলেন তার বড় ভাই হাফেজ মাহমুদুল হক, মেজ ভাই হাফেজ মওলানা মাহবুবুল হক এবং হেফাজতের একজন নেতা।
 
লাইভে মামুনুল হক বলেন, আমি বেশ কয়েকদিন রাতদিন টানা পরিশ্রমের কারণে খুবই হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। আমার একটু বিশ্রাম প্রয়োজন ছিল। বিশ্রামের জন্য সোনারগাঁও জাদুঘর এলাকায় গিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার স্ত্রী ছিলেন।
 
 
তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর পরিচয় নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমার সাথে যিনি ছিলেন তিনি আমার বিবাহিতা দ্বিতীয় স্ত্রী। তার সাক্ষী-সবুদ নিয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করেছে। সেখানে পুলিশের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমার সঙ্গে যাবতীয় বিষয়ের বিবরণ শুনে এবং সমস্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।
 
রিসোর্টে নারীসহ অবরুদ্ধ মামুনুল হক
বাকিটা বাসায় এসে বলছি— কথিত ফোনালাপে স্ত্রীকে মামুনুল
‘দাঙ্গার ভয়ে’ মামুনুলকে ‘জনতা’র হাতে তুলে দেয় পুলিশ
 
লাইভে মামুনুল জানান, ওই নারী তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাবেক স্ত্রী। তার দু'টি সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পারিবারিকভাবে এবং বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে পরে ওই নারীকে বিয়ে করেন। তিনি বলেন, শরিয়তসম্মতভাবেই সে আমার বিবাহিত স্ত্রী। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আমার বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়েছেন।
 
ঘটনাস্থলে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে মামুনুল আরও বলেন, প্রশাসন নয়, তবে স্থানীয় কিছু যুবলীগ কর্মী এবং সরকার দলীয় দায়িত্বশীল কিছু ব্যক্তি আমার সঙ্গে অসদাচরণ করেছেন এবং লাইভ ভিডিও ধারণ করে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছেন। লাইভ ভিডিও সম্প্রচারের কারণে দেশবাসী জেনেছে এবং আমার সেখানকার বক্তব্য দেশবাসী শুনেছে। সে বক্তব্য শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে স্থানীয় হেফাজত কর্মীরা উপস্থিত হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য জনতাকে আমি শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে আমি তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে সেখান থেকে সরে যাই।
 
শনিবার বিকেলে নারীসহ মামুনুল হকের অবরুদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যায় সেখানে হামলা চালান স্থানীয় হেফাজতকর্মীরা। এসময় হোটেলে ভাঙচুরও চালান তারা। একপর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার পর মামুনুল হককে হোটেল থেকে বের করে নিয়ে যান।
 
অবশ্য স্থানীয় পুলিশ সারাবাংলাকে বলছে, হেফাজতকর্মীরা মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়নি, 'দাঙ্গার ভয়ে' তারাই মামুনুলকে চলে যেতে দিয়েছেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সংগঠন এর আরো খবর