দল-মতের ঊর্ধ্বে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি : মামুনুল হক

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, স্বাধীনতার মহান নেতা, এই রাষ্ট্রের স্থপতি মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমরা দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে ভালোবাসি, তাকে শ্রদ্ধা করি, তাকে সম্মান জানাই, তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।’
 
মামুনুল হক বলেন, ‘ভাস্কর্যের বিরোধিতা নিছক ধর্মীয় কারণে করছি। রাজনৈতিক কোনও অভিলাষ নেই। বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে অতিরিক্ত এলার্জি নেই। বঙ্গবন্ধুকে একজন প্রয়াত মুসলিম নেতা হিসেবে স্মরণ করি। তার ভাস্কর্য তৈরি করা হলে আল্লাহর কাছে তিনি লজ্জিত হবেন। আমাদের মহান নেতা পরজগতে আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়ে পড়ুন, এটা আমরা চাই না। কল্যাণকামিতার জায়গা থেকেই রাষ্ট্র, সরকারকে বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহর কাছে লজ্জিত না করার জন্য অনুরোধ করছি। এই অনুরোধ আমরা করেই যাবো।’
 
সোমবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে ‘ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধ, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতির’ ওপর দেয়া বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
 
মামুনুল হক আরো বলেন, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার মাধ্যমে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ভাস্কর্য ভাঙার সঙ্গে কেউ কেউ আমার নাম জড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, আমার কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে অথবা আমার কোনো কথায় এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনো কথা আমি বলিনি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোনো ব্যক্তি এমনটা কখনও করতে পারেন না।
 
তিনি বলেন, আমার বক্তব্য হলো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ভাস্কর্য রাখা নাজায়েজ ও হারাম- সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে আমি জানিয়ে দিয়েছি এবং আমরা আমাদের বক্তব্যে এ কথা স্পষ্ট করে দিয়েছি। যদি আল্লাহ কখনও আমাদের রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সক্ষমতা দান করেন তাহলে শরিয়াহর আলোকে সকল কার্যক্রম ঢেলে সাজাবো ইনশাআল্লাহ।
 
মামলার প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, আমি বারবার বলছি আমাদের বক্তব্যে নিজেদের মতামত, মনগড়া ব্যাখ্যা বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রদ্রোহের বুনিয়াদ সাজিয়েছে। সারা দেশের আলেমরা বলছেন, আমাদের বক্তব্য কখনোই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। বরং স্বাধীনতার মহান নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল বাংলাদেশি, সকল বাঙালি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। একজন মুসলিম হিসেবে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।
 
প্রসঙ্গত, সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার একটি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ করে মামুনুল হক, জুনায়েদ বাবুনগরী ও ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
 
ফেসবুক লাইভের বক্তব্যে মামুনুল হক উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালে গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে ইসলামবিরোধী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ভুঁইফোড় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চও এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
 
মামলা প্রসঙ্গে মামুন বলেন, ‘বারবার বলছি, আমাদের বক্তব্যে নিজেদের মতামত, মনগড়া ব্যাখ্যা বিকৃতরূপে উপস্থাপন করে রাষ্ট্রদ্রোহের বুনিয়াদ সাজিয়েছে। সারাদেশের আলেমরা বলছেন, আমাদের বক্তব্য কখনোই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়। বরং স্বাধীনতার মহান নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল বাংলাদেশি, সকল বাঙালি শ্রদ্ধা করি, ভালোবাসি। একজন মুসলিম হিসেবে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি।’ তার মন্তব্য, ‘আমাদের সমস্ত বিরোধ হলো ভাস্কর্য তথা মূর্তি নিয়ে।’
 
‘বঙ্গবন্ধুর নামকে ভুঁইফোড় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ দেশের ইসলামবেত্তাদের মুখোমুখি করে দিতে চাইছে। এটি সুপরিকল্পিত' বলে অভিযোগ করেন মামুনুল। তার দাবি, এই কাজটি করার মূল উদ্দেশ্য হলো চেতনার ব্যবসা করা। তারা বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে ইসলামকে যেমন ঘায়েল করতে চায়, তেমনি বঙ্গবন্ধুর মহান ব্যক্তিত্বকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটি চেতনার ব্যবসা করতে চায়।’ এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে উগ্রবাদী বলে অভিযুক্ত করেন।

সর্বশেষ সংবাদ

সংগঠন এর আরো খবর