মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদে ফের ইসলামী দলগুলোর বিক্ষোভ

দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরের প্রতিবাদে দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ করেছে সমমনা ইসলামী দলগুলো।
 
জুমার নামাজের পরপর কয়েক হাজার মুসল্লি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে।
 
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা দিল্লিতে সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। এ সময় মোদির ঢাকা সফর প্রতিহতের ঘোষণাও দেন তারা।
 
এর আগে জুমার আগ থেকে পুরো বায়তুল মোকাররম এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। গত শুক্রবারও জুমার পর মোদির ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছিল মুসল্লিরা।
 
 
মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে আগামী ১৭ মার্চ নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
 
তবে সম্প্রতি দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনায় মোদির বিজেপি সরকার জড়িত এমন অভিযোগ এনে ইসলামী দলগুলো মোদিকে মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানে না আনার দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশ্য বাংলাদেশ সরকার এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
 
উল্লেখ্য, বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী মুসলিমদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।
 
কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় কমপক্ষে ৫১ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।
 
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
 
বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।

সংগঠন এর আরো খবর