এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত

নন–এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে নন–এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের মূল সড়কের বিপরীত পাশে তাদের এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের ১০তম দিন পালিত হচ্ছে। আন্দোলন থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’; ‘এমপিও না দিলে বাড়ি ফিরে যাবো না’; ‘একদফা দফা এক দাবি এমপিওভুক্তিকরণ চাই’; এমন নানা শ্লোগানে প্রেস ক্লাব এলাকা জুড়ে ত্তাল হয়ে উঠেছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করে এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে পারেন না। সমাজে তাদের কোনো সম্মান নেই। টিউশনি করিয়ে যা অর্থ আয় হয় তা দিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হয়। নন এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ১৮ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছি। আমাদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বারবার ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, এমপিওকরণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীরা বাড়ি ফিরে যাবে না। প্রতিদিন এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। এতেও যদি আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হয় তবে, রাজপথে বসেই আমাদের লাগাতার অনশন কর্মসূচি পালিত হবে। জীবন গেলেও আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন কর্মসূচিতে নামে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারি ফেডারেশন। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অনশন করার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তারা অনশন ভঙ্গ করে ফিরে যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তখন তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন। সারাদেশে বর্তমানে সাড়ে সাত হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাকে। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে এখনো এমপিওভুক্ত না করায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষকরা।

সংগঠন এর আরো খবর