প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এগিয়ে আসুন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস, অটিস্টিক শিশু-কিশোরদের সম্ভাবনাগুলোকে চিহ্নিত করে সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে গড়েতোলা হলে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা না হয়ে অপার সম্ভাবনা বয়ে আনবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আগামীকাল ২ এপ্রিল ১১তম ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালিত হবে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘নারী ও বালিকাদের ক্ষমতায়ন, হোক না তারা অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন’। এ উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব অটিস্টিক ব্যক্তি, শিশু-কিশোর, তাদের পরিবার ও পরিচর্যাকারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

প্রতিবন্ধী নারী ও বালিকারা কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা গ্রহণে পরিবেশ ও প্রতিবেশগতভাবে সুবিধা বঞ্চিত হন। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী ও বালিকারা অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী নারী ও বালিকাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করেছি। এ সব কর্মসূচি গ্রহণের ফলে অটিস্টিক শিশু ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন হয়েছে বলেও বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অটিজমবিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন তার কন্যা সায়মা ওয়াজেদের নিরলস প্রচেষ্টায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অটিস্টিক শিশুদের প্রতি সমাজের নেতিবাচক ধারণার পরিবর্তন হয়েছে। ‘তার (সায়মা ওয়াজেদের) পরামর্শে আওয়ামী লীগ সরকার অটিস্টিক শিশু ও ব্যক্তিদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অটিস্টিক শিশু শনাক্তকরণ, সেবাপ্রদান এবং তাদের মা-বাবা বা যত্ন দানকারীদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (আইপিএনএ) স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুল, বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র, প্রতিটি জেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্যকেন্দ্র এবং অটিজম রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করেছি। দেশের ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্যকেন্দ্রের মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্য শনাক্তকরণ, কাউন্সিলিং ও থেরাপিসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী ‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস ২০১৮’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।

জাতীয় এর আরো খবর