রমজানে পেট খারাপ হলে করণীয়

এসেছে মাহে রমজান। রমজান মাসে বেশি ভাজাপোড়া খাওয়ার কারণে অনেকের পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার ফুড পয়েজনিং (বিষক্রিয়ার) কারণে হঠাৎ করে পেট খারাপ হতে পারে। পেটের সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কিছু ঘরোয়া খাবার খেলে অতি দ্রুত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন।

আসুন জেনে নিই সে সব খাবার সম্পর্কে 

১. লেবুর জল:
পেট খারাপ করলে লেবুর জলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে! আসলে লেবুতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ পেটে সমস্যা কমায়, সেই সঙ্গে এই ফলে রয়েছে নানাবিধ খনিজ, বিশেষত পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পেটের রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. ডাবের পানি:
পেট খারাপের সময় শরীর থেকে খনিজ পদার্থ বেড়িয়ে যায়। ফলে দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে ডাবের পানির কোন বিকল্প হয় না বললেই চলে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি দূর করে পেটকে স্বাভাবিক করে। প্রসঙ্গত, পেট খারাপের মোকাবিলা করতে দিনে কম করে ২ গ্লাস ডাবের জল খেতেই হবে। তবেই কিন্তু সুফল মিলবে!
৩. আদা:
পেট খারাপ হলে আদার কোনও বিকল্প আছে বলে তো মনে হয় না। কারণ এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপাটিজ এমন ধরনের রোগ সারাতে দারুন কাজ করে। এ ক্ষেত্রে ১ কাপ বাটার মিল্কে হাফ চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করুন। এই পানীয়টি দিনে ৩-৪ বার খেলেই দেখবেন সমস্যা কমতে শুরু করে দিয়েছে। প্রসঙ্গত, যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা ভুলেও এই ঘরোয়া পদ্ধতিটিকে কাজে লাগাবেন না।

৪. দারচিনি:
এতে রয়েছে এমন কিছু উপাদান, যা চোখের নিমেষে হজমে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে পেট খারাপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ ক্ষেত্রে দিনে ৪ বার দারচিনি পাউডার দিয়ে তৈরি চা খেলেই উপকার মিলতে শুরু করবে। প্রসঙ্গত, ১ কাপ গরম জলে ১ চামচ দারচিনি পাইডার মিশিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিন। সময় হয়ে গেলে চা পান করুন।

৫. মেথি বীজ:
১ চামচ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মেথি বীজ মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে হবে। সঙ্গে পেটে যন্ত্রণা এবং বদ হজম কমে যাবে।
৬. দই:
পেট খারাপ হলেই এক বাটি তাজা টক দই খেয়ে নেবেন। তাহলেই বারে বারে আর বাথরুম ছুটতে হবে না। আসলে টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্টোব্যাসিলাস এবং বিফিডোব্য়াতটেরিয়াম নামে দু ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশাপাশি ডায়ারিয়া কমাতে দারুন উপকারে লাগে। প্রসঙ্গত, যতদিন না পেটের ব্যথা এবং পটি হওয়া কমবে, ততদিন দৈনিক ২-৩ কাপ টক দই খেয়ে যেতে হবে।

৭. কলা:
যে কোনও ধরনের পেটের রোগ সারাতেই এই ফলটি দারুন কাজে আসে। আসলে কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্যাকটিন, যা আপনার পেটকে করবে স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে ডায়ারিয়া বা পেট খারাপের প্রকোপ কমাতেও সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ১ গ্লাস বাটার মিল্কে ১ টা কলা চটকে নিয়ে মিশিয়ে নিন।