ঘর সাজাতে বাহারি উদ্ভিদ
আয়শা সিদ্দিকা পলি :

শহুরে ব্যস্ত জীবনে আজকাল ছুটির দিন বা বড় অবকাশ ছাড়া প্রকৃতির সংস্পর্শে যাওয়ার সুযোগ তেমন নেই। তাই প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘরের চার দেয়ালের মধ্যেই রাখতে পারেন জীবন্ত উদ্ভিদ। এতে গৃহসজ্জায় নান্দনিকতার পাশাপাশি প্রশান্ত এক পরিবেশও সৃষ্টি হয়।  এজন্য বাহারি উদ্ভিদ দিয়ে নিজের ঘরটিকে সাজিয়ে নিতে পারেন।
ছায়াপ্রেমী উদ্ভিদ
বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও বারান্দায় রাখা টবের মতো ঘরের ভেতরটাও সাজাতে পারেন সজীব গাছ দিয়ে। কিন্তু গৃহসজ্জায় কোন ধরণের উদ্ভিদ উপযুক্ত এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতি থেকে জানা যায়, ছায়ায় বেঁচে থাকে এমন অনেক উদ্ভিদ ঘরের ভেতরে টবে লাগানো যায়। এসবের (ইনডোর প্ল্যান্টস) মধ্যে আইভি লতা, পাতাবাহার, মানি প্ল্যান্ট, ফাইলো ডেনড্রন, ড্রাসেনা, ক্রোটন, বাহারি কচু, পাম, অ্যানথুরিয়াম, ডাইফেনবেকিয়া, ম্যারান্টা, মনস্টেরা প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এগুলোর প্রতিটির মধ্যে আবার নানা বৈচিত্র্যও রয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে এসব উদ্ভিদ পাওয়া যায়। তবে দাম খুব বেশি নয়, সাধ্যের মধ্যেই নিজের পছন্দের গাছটি পেয়ে যাবেন।
যেভাবে সাজাবেন
ঘরের আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে মানানসই উদ্ভিদ ও টব বাছাই করুন। তা ছাড়া ঘরের অবস্থান ও আয়তনের কথাও বিবেচনায় রাখতে হবে। এমন অনেক গাছ আছে যেগুলো ছায়ায় বা সরাসরি সূর্যের আলো ছাড়াও বেঁচে থাকে। তবে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল থাকলে ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সুবিধার্থে ঘরের আসবাবপত্র ও গাছের মাঝখানে যথেষ্ট পরিমাণ ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে। বিশৃঙ্খল বা এলোমেলো অবস্থা এড়াতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘর সাজাতে হবে। যেসব ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি চলে, সেখানে ঠান্ডাপ্রিয় গাছ, যেমন- ইংলিশ আইভি, ম্যারেন্টা, জ্যাকোবিনিয়া, রাবার, বট ও মানি প্ল্যান্ট রাখা যেতে পারে। আর ড্রয়িংরুমের টেবিলে দু-একটি বনসাই প্ল্যান্টও রাখতে পারেন। রোদ পড়ে না, এমন দেয়ালে ঝুলন্ত উদ্ভিদ লাগানো যায় বা ওয়াল কার্পেটিংও করা যায়। শোয়ার ঘর ও খাবারের ঘরের শাঝের স্থানটিতে সারিবদ্ধভাবে কারুকাজ করা টবে বাহারি পাতার গাছ লাগানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্রোটন, রক্তপাতা, রিবন প্ল্যান্ট, ডাম্বকেইন, শতমূলী, ক্যালাডিয়াম, ড্রাসেনা ও অ্যাগলিওনিমা প্রভৃতি উদ্ভিদ বাছাই করা যায়।
যত্ন
টবসহ গাছ ঘরে এনে রেখে দিলেই হবে না, এসবের প্রয়োজনীয় যত্ন বা পরিচর্যা করতে হবে। তবে এসব গাছের সহনশীলতা অনেক বেশি হওয়ায় সহজে মরে না। প্রয়োজন অনুযায়ী গাছের খাবার ও পানি দিতে হবে। রাসায়নিক সার না দিয়ে পরিবেশবান্ধব জৈব সার, যেমন- শুকনো গোবর ব্যবহার করলেই গাছ বেশি সুন্দর ও সুস্থ থাকে। প্রায় সব নার্সারিতেই এসব জৈব সার পাওয়া যায়। পানি দেওয়ার সময় সচেতন থাকতে হবে। প্রতিদিন কম করে পানি দেওয়া ভালো। প্রতিটি টবের নিচের অংশে ছিদ্র রাখতে হবে, যাতে বাড়তি পানি বেরিয়ে যেতে পারে।
সাবধানতা
টবে সাধারণত বেলে ও দোআঁশ মাটিতেই এসব উদ্ভিদ লাগানো হয়। যত্ন নিলে এবং গাছের টব পরিচ্ছন্ন ও শুষ্ক রাখলে ঘরে ক্ষতিকর রোগজীবাণু ও পোকামাকড়ের বসত হওয়ার শঙ্কা থাকবে না। তবে অ্যাজমা বা অ্যালার্জির সমস্যা যাঁদের আছে, তাঁদের শোয়ার ঘরে এসব উদ্ভিদ না রাখাই ভালো। আর শিশুদের শোয়ার ঘরেও স্যাঁতসেঁতে টব রাখা যাবে না।
সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি এসব উদ্ভিদ বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য উপাদান অক্সিজেনও সরবরাহ করে। এতে বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও অক্সিজেনের ভারসাম্য তৈরি হয় এবং পরিবেশের তাপমাত্রাও তুলনামূলক কমে।
 

সর্বশেষ সংবাদ