ঠোঁটের যত্ন নিন
খবরের অন্তরালে প্রতিবেদক :

কথায় আছে, উপায় জানলে একটিমাত্র কটাক্ষেই পুরুষকে মরো-মরো করে ফেলা যায়। অর্থাৎ কিনা সরাসরি না তাকিয়ে, চোখের সাইড অ্যাঙ্গেল অন করে হালকা চাউনি ছুঁড়ে দেওয়া। তাতেই কাত, জন্ম থেকে নিজেদের সিংহশাবক বলে প্রতিপন্ন করতে চাওয়া সমগ্র বিশ্বের পুরুষজাতি।
জিনগত ভাবে আয়ত-বিলোল নয়নের অধিকারিণী বঙ্গকন্যারা চোখে সর্বনাশ মেখে এভাবেই বহু সিংহকে প্রায় ইঁদুরে পরিণত করে ছেড়েছেন। তাই চোখ নিয়ে কিছু বলাই বাহুল্য। শরীরের মধ্যে এই চোখের প্রতি অতিরিক্ত যত্ন আর কারিকুরি নিয়ে আমাদের বড় একচোখামি। একচিলতে বা চড়া করে কাজল-লাইনার ছাড়া বেরনো একেবারেই নিষিদ্ধ। তাতে মুখের বাকি অঙ্গগুলি যতই ব্রাত্য থাকুক। চোখের মনোপলি রাজত্বের বাইরে একটু চোখ নামিয়ে ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে দেখা যাক এবার?
হ্যাঁ ঠোঁট! সামান্য লিপস্টিক বা গ্লসের ছোঁয়া দিয়ে প্রায় ঠোঁট বেচারিকে আমরা বড়ই অবহেলা করি। কেন ভুলে যাচ্ছেন, চোখের যেমন কটাক্ষ আছে, ঠোঁটেরও তো ঠোঁটাক্ষ আছে নাকি? আরে বাবা ইতিউতি চাউনির সর্বনেশে আঘাতের মতোই ঠোঁটের টিপুনি বা দাঁতে পিষে যাওয়ার মায়া-মাদকতা কি কম? নরম ভেজা ওষ্ঠাধরের ওঠা-নামা দেখতেই কেটে যায় কত নেশা-সন্ধ্যে। তবে কেন ঠোঁট বেচারি এই বাজারে একটু সহানুভূতির ছোঁওয়া পাবে না?
কেন আদরডুবো হাতের পেলব স্পর্শে ছুঁয়ে যাবে না? এমনিতেই শীতের শুরু থেকেই চুলের হরেক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে লেবু-দই-মধু মিলিয়ে গোটা রান্নাঘর ব্যবহার করে ফেলি। আদ্যন্ত চকচকে উপস্থিতির মাঝে ফাটা-চেরা ঠোঁট কিন্তু সব মাটি করবে। তাই মেক-আপের সঙ্গে লিপস্টিক-গ্লস দিয়ে সব সামলে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বাড়িতেই দৈনন্দিন কাজের মধ্যে ত্বক-চোখ-চুলের মতোই ঠোঁটেরও আলাদা যত্ন একেবারে মাস্ট। একফালি নরম, ফাটলহীন ঠোঁট হালকা বামের আভায় রেঙে হাসির কুপোকাত অস্ত্রকে আরও শাণাবে বইকি!
বিশেষজ্ঞদের মতে মুখের সবচেয়ে ভাইটাল দুই অঙ্গ হল চোখ আর ঠোঁট। সাজের নিয়মানুযায়ী চোখে ভারি মেক-আপ মানেই ঠোঁটের একটা নো মেক-আপ লুক। শীতের ফুটিফাটা সিজনে নো মেক-আপের ঠোঁট নিয়ে তাই ভাবতেই হবে। গাঢ় লিপস্টিকে যে খুঁত ঢাকা যেত, ন্যুড লিপে তাকে আসতেই দেবেন না। শীতের শুরু থেকেই রুক্ষ হতে হতে ঠোঁটের চেহারাটা ঠিক যেন পুরুলিয়ার মাটির রূপ নেয়।
বিউটিশিয়ানদের মতে, ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করার পরেই ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে নিন। স্নানের আগে অবধি সকালের হিমেল হাওয়ার দাপট থেকে ঠোঁটের নরম ভাব বজায় থাকবে। ত্বকের মতো ঠোঁটেরও এক্সফোলিয়েশন দরকার। স্নানের সময় প্রতিদিন মধুর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস আর চিনি মিশিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ; সেটাই শুকনো চামড়া তুলে ঠোঁটের গোলাপি-নরম-ভেজা ভাব বজায় রাখবে।
উঁহু, এতেই শেষ না। স্নান পরবর্তী শিরশিরে হাওয়ায় এক্সফোলিয়েটেড ঠোঁট আরও যত্নের অপেক্ষা থাকে। বাড়িতে বানানো প্যাক লাগান ঠোঁটে। নারকোল তেল, সর আর গোলাপ জলে মেশানো প্যাক লাগান ঠোঁটে। দশ মিনিট লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। বেরনোর আগে অ্যালোভেরা বা টি-ট্রি অয়েল যুক্ত লিপ বাম মাস্ট। লিপ বাম ব্যাগেও রাখুন। বাইরে খাওয়ার পরে মুখ ধুলেই হালকা বাম বুলিয়ে নিতে হবে। অতিরিক্ত ধূমপানের ফলে ঠোঁটে কালো ছোপ পড়ে যায়। শশা আর গাজরের রস লাগান প্রতিদিন রাতে। পুরনো সুন্দর ঠোঁট ফিরে আসবে। আর সবশেষে রাতে শোওয়ার আগে মোটা করে পেট্রোলিয়াম জেলি অবশ্যই লাগাতে হবে।
এসব পরিচর্যার পরেই আসে মেক-আপ। চোখের দিকে বেশি সময় দিলে ঠোঁটে ন্যুড মেক-আপ করুন। লিপস্টিক লাগানোর ৫ মিনিট আগে ন্যাচারাল কালারের লিপ বাম লাগিয়ে ছেড়ে দিন। বেজ, লাইট ব্রাউন, পিঙ্ক বা ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিকের শেড বাছুন। লাইনার যেন একই রঙের হয়। শীতের পার্টিতে ম্যাট লিপ কালার একেবারেই না। বরং ময়শ্চারাইজারযুক্ত ক্রিমি লিপ কালার লাগান। ঠোঁট অদ্ভুত মায়া-পেলবতায় প্রশংসনীয় হবে। নাইট পার্টিতে গেলে ওপর থেকে শিমার গ্লস বুলিয়ে নিন হালকা করে। তারপর দেখুন তো, পাশ থেকে কেউ গাঢ় স্বরে বলে কিনা, ‘তোমার ঠোঁটে দেখেছিলেম আমার সর্বনাশ’।
খবরের অন্তরালে.কম/আশরাফ/৭ জানুয়ারি ২০১৬